ভর্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিবছরের নিত্য আয়োজন। প্রতি বছর HSC এবং A levels এর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পছন্দের বিষয়ে ভর্তির জন্য পড়াশোনা করতে থাকে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম পছন্দের হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিবিএ। IBA এর পূর্ণরুপ Institute of Business Administration. অন্যদিকে BBA বলতে Bachelor of Business Administration বুঝায়। IBA একটি ইন্সটিটিউট, আর BBA হচ্ছে ডিগ্রী। আইবিএ বিবিএ এর একটি বড় সুবিধা হল- সায়েন্স বা কমার্স উভয় ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা এই ভর্তি পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা মূলত ২ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়- লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা।

লিখিত পরীক্ষা

যারা আইবিএ তে ভর্তি হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছো, তারা অনেকের মুখেই শুনবে যে আইবিএ এর মৌখিক পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন এবং সেখানে পাস করা যায় না। এটি পুরাপুরি ভুল কথা। আইবিএ তে যদি ভর্তি হতে চাও তাহলে তোমার প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ লিখিত পরীক্ষাটা ভালোভাবে দেওয়া। লিখিত পরীক্ষার পাসের জন্য ৩ টা বিষয়ের উপর MCQ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এগুলো হল- Math, English এবং Analytical. প্রতিটি বিষয়ে পাসের জন্য আলাদা ভাবে ৬০% মার্ক্স তুলতে হবে। নইলে ভর্তি পরীক্ষায় টিকা সম্ভব হবে না। এ কারণেই মৌখিকের তুলনায় লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বেশি। এটাতে যদি পাস করতে না পারো তাহলে অত আগে থেকে মৌখিক পরীক্ষার কথা চিন্তা করে কোন লাভ নেই। লিখিত পরীক্ষার ৪টি অংশ থাকে। এ সম্পর্কে নিচে সংক্ষেপে ধারণা দেওয়া হল-

• Math: ম্যাথে তুমি কতটুকু ভালো করবে টা পুরোপুরি চর্চার উপর নির্ভর করবে। যারা বিশেষ করে এসএসসি বা ও লেভেলস এর আগের ম্যাথগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পেরেছিলে তাদের জন্য ম্যাথের প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে সোজা হবে। ম্যাথের জন্য বাজারে কিছু বই এবং প্রশ্নব্যাঙ্ক পাওয়া যায় আইবিএ ভর্তি পরীক্ষার জন্য, ওগুলোচর্চা করলে ম্যাথ সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।

• English: এই বিষয় টা সাধারণত বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীর কঠিন মনে হয়ে থাকে এবং সত্যি বলতে এই বিষয়টা আসলেই কঠিন। বোর্ড পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই এই বিষয়ের উপর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা দরকার। ইংলিশে Vocabulary সহ আরও অনেক শূন্যস্থান পূরণ জাতীয় প্রশ্ন থাকে। বাজার থেকে SAT, জিআরই(GRE), GMAT এর বইগুলো কিনে সেখান থেকে এই অংশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

• Analytical: এই অংশটা মূলত বুদ্ধির খেলা যার কারণে এই প্রশ্নগুলো খুব ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। স্যাট, জিম্যাট বইগুলোতে এই জাতীয় প্রশ্ন পাওয়া যাবে। বাজারে আরও কিছু বই আছে যেগুলো এইগুলো ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। প্রয়োজনে অনলাইনেও গুগল করে এই প্রশ্ন গুলোর উপর চর্চা করা সম্ভব।

• Composition: এই অংশগুলো মূলত বাংলা রচনার মতো বা ইংরেজিতে Essay লেখার মতো। যেকোনো ধরনের বিষয়ের উপর রচনা লেখতে দিতে পারে তাই কারেন্ট ইভেন্টস সম্পর্কে ধারণা রাখা ভালো। রচনা ছাড়াও তোমাকে ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে দিতে পারে বা সারাংশ লিখতে দিতে পারে।
[su_button url=”http://blog.bohubrihi.com/academics/engineering-admission-talks/” target=”blank” style=”soft” background=”#2399a7″ wide=”yes” center=”yes” icon=”icon: pencil”]Read More: তোমরা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং এডমিশন টেস্ট দিবে[/su_button]

মৌখিক পরীক্ষা

লিখিত পরীক্ষায় যদি পাস করতে পারো তবে তোমাকে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ডাকা হবে। এই অংশের প্রস্তুতি নিয়ে একেকজন একেক রকম মতামত দিবে, কারণ সবাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এর জন্য প্রস্তুতি নেয়। তবে এইটুকু বলা যায়- সম্মানিত শিক্ষকেরা মৌখিক পরীক্ষায় তোমার জ্ঞান/মুখস্থবিদ্যা যাচাই করবেন না। তুমি কতোটা আত্ববিশ্বাস নিয়ে উত্তর করছো, তোমার স্বাভাবিক উত্তরগুলোর মধ্যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় আছে কি না, তুমি তোমার উত্তরগুলো সম্পর্কে কতটুকু নিশ্চিত, ইত্যাদি আরও অনেক কিছু যাচাই করা হবে সেখানে। তাই আমি মনে করি সত্যি কথা বলা উচিৎ মৌখিক পরীক্ষায়, কোন কিছু না জানা থাকলে ভদ্রভাবে স্বীকার করে ফেলা ভালো। আর উত্তর জানা থাকলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত না বলাই ভালো।

শেষ কথা বলি, যেকোনো ভর্তি পরীক্ষাই চর্চার ব্যাপার, IBA-ও এর ব্যাতিক্রম কিছু নয়। চর্চা বজায় রাখার জন্য তুমি চাইলে কোন কোচিং এও ভর্তি হতে পারো বা বাসাতেও প্রশ্নব্যাঙ্ক কিনে নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে পারো। সবার প্রতি রইল শুভকামনা।

Ayman Awsaf
0 0 vote
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments