দুটি সিচুয়েশনের কথা বিবেচনা করা যাক-


১। আপনি ব্যবসায়ী অথবা ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন; আপনার একটা ওয়েবসাইট দরকার, কিন্তু ওয়েবসাইট বানানোর মত সময় বা অর্থ খরচ করা হয়ে উঠছে না।

২। আপনি ব্যবসায়ী অথবা ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন। আপনার অলরেডি একটা ওয়েবসাইট আছে, কিন্তু সেটি একদমই মন মত হয়নি। ওয়েবসাইটে যেরকম ফিচার বা পারফরম্যান্স চেয়েছিলেন সেরকম হয়নি। তাই আপনার নতুন করে আরেকটি ওয়েবসাইট বানানো দরকার।


উপরের দুটি সিচুয়েশনের যেকোন একটি যদি আপনার জন্য প্রযোজ্য হয়, সেক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে আপনার সমাধান। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে একেবারেই কম খরচে (বাৎসরিক ২-৩ হাজার টাকা বা তার কমেও হতে পারে) কম সময়ে (একদিনের মধ্যেও বেসিক একটা ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব) পছন্দমত ফিচার ব্যবহার করে ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারেন।


ওয়ার্ডপ্রেস ছাড়াও ওয়েবসাইট বানানোর জন্য আরও অনেক সফটওয়্যার আছে। তবে এই আর্টিকেলে আমরা দেখবো কেনো আপনার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসই সবচেয়ে উপযুক্ত!


ওয়ার্ডপ্রেস সম্পূর্ণ ফ্রি!

আপনি সরাসরি ওয়ার্ডপ্রেস ডাউনলোড করে ইন্সটল করতে পারবেন, ইচ্ছামত ব্যবহার বা মোডিফাই করতে পারবেন- কোনো টাকা লাগবে না।


কেবল ডোমেইন আর হোস্টিং এর জন্য আপনাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। তবে আজকাল প্রায় সব হোস্টিং কোম্পানিই তাদের হোস্টিং প্যাকেজের সাথে একটি ডোমেইন এক বছরের জন্য ফ্রি দিয়ে দেয়। আমি BlueHost, Hostgator, SiteGround সহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করেছি। স্পীড, কাস্টমার সাপোর্ট আর অন্যান্য ওয়েবসাইট সার্ভিস বিবেচনায় SiteGround এর সার্ভিস আমার কাছে এখনও পর্যন্ত সেরা মনে হয়েছে। তাদের বেসিক হোস্টিং সার্ভিস প্যাকেজ মাসিক মাত্র $3.95 এ শুরু হয়, বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

Web Hosting


এটি জনপ্রিয়, প্রায় ৬০% মার্কেট শেয়ার ওয়ার্ডপ্রেসের দখলে

২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর সকল ওয়েবসাইটের প্রায় ৩০% ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি! শতকরা হিসেবে ৩০% কত বেশি এটা বুঝতে হলে ভেবে দেখুন- প্রতিদিন আপনি ৪টা ওয়েবসাইট ভিজিট করলে সেগুলোর একটা না একটা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি!

29%
WordPress
71%
Other System

% of all websites using WordPress

59%
WordPress
41%
Other System

How popular WordPress is in the CMS market


হাজার হাজার প্রফেশনাল থীম (ফ্রি এবং পেইড)

ওয়ার্ডপ্রেসের থীম ডিরেক্টরিতে প্রায় ২০০০ ফ্রি থীম আছে। তাছাড়া অন্যান্য অনেক মার্কেটপ্লেস থেকে প্রিমিয়াম থীম কিনে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেসের থীম ব্যবহার করা সহজ, তাই ওয়েবসাইটের ভিজুয়াল look and feel সুন্দর করার জন্য কোনো প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার ভাড়া করার দরকার নেই আসলে!


বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে যেকোনো ফিচার যুক্ত করতে পারা যায়

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে খুব সুন্দর সিম্পল ব্লগ যেমন তৈরি করতে পারবেন, তেমনি আপনার ব্যবসার সুবিধার্থে অনেক কমপ্লেক্স ওয়েবসাইট স্ট্রাকচারও তৈরি করতে পারবেন। ইচ্ছামত ফিচার যুক্ত করতে সাহায্য করবে হাজার হাজার ফ্রি এবং প্রিমিয়াম প্লাগিন। আপনি অনলাইন ই-কমার্স স্টোর বানাতে চান? এর জন্য রয়েছে Woocommerce প্লাগিন, অনলাইনে টিউটোরিয়াল বা কোর্স অফার করতে চান? এর জন্যে রয়েছে LifterLMS প্লাগিন। আপনার ওয়েবসাইটে কনটাক্ট ফর্ম তৈরি করতে চান? আছে Contact Form 7. একই ফিচার যুক্ত করার জন্য অনেকগুলো প্লাগিন রয়েছে, তাই সেগুলো থেকে পছন্দমত বেছে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। জটিল সব ফাংশনালিটি যুক্ত করতে পারবেন কোনো কোডিং এক্সপেরিয়েন্স না থাকলেও।


ওয়ার্ডপ্রেস অনেক বেশি সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি

গুগলের ইঞ্জিনিয়ার Matt Cutts এর ভাষায়-

WordPress automatically solves a ton of SEO issues

ওয়ার্ডপ্রেসের কোড লেখা হয়েছে খুবই হাই কোয়ালিটি SEO Compliance মেইনটেইন করে। Yoast SEO এর মত ফ্রি প্লাগিন ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইট আরও বেশি অপটিমাইজড করতে পারবেন।


ওয়ার্ডপ্রেস সেইফ এবং এর সিকিউরিটি বেশ মজবুত

ওয়ার্ডপ্রেসের কোড লেখা হয়েছে সিকিউরিটির কথা মাথায় রেখে। তবে অফলাইন পৃথিবীর মত অনলাইনও সব সময় আনপ্রেডিক্টেবল। তাই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিভিন্ন ফ্রি প্লাগিন ব্যবহার করা যায় চাইলে।


বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া ফাইল ফরম্যাট ব্যবহার করা যায়

শুধু Text না! বিভিন্ন ফরম্যাটের ইমেইজ, ভিডিও, অডিও ছাড়াও পিডিএফ বা অন্যান্য ফাইল ম্যানেজম্যান্টের জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের Built-in সাপোর্ট রয়েছে!


ওয়ার্ডপ্রেসের আরেকটি শক্তিশালী দিক হল- এটি oEmbed ফিচার সাপোর্ট করে। এর মানে, আপনি ইউটিউব ভিডিও, ইন্সটাগ্রাম ফটো, টুইটার টুইটস, সাউন্ডক্লাউডের অডিও সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টের জাস্ট URL টা কপি করে ওয়ার্ডপ্রেসের ওয়েবসাইটে Paste করলেই সেটি অটোমেটিক ওয়েবসাইটে এমবেড হয়ে যাবে। বাড়তি আর কিচ্ছু করতে হবে না। নিচের এনিমেশনে দেখতে পাচ্ছেন!

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন যে কারণে... যেভাবে...


অসীম সংখ্যক user এবং আলাদা আলাদা user-role

ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন User-role রয়েছে যেমন Administrator, Editor, Subscriber, Participant, Author, Contributor. প্রতিটা ইউজার রোল এর ক্যাপাবিলিটি আলাদা এবং প্রতিটি role এর জন্য একাধিক (কোনো লিমিট নেই আসলে) ইউজার যুক্ত করতে পারবেন। বিভিন্ন প্লাগিন ইন্সটল করার সাথে সাথে সেই প্লাগিনের সাথে সংশ্লিষ্ট role তৈরি হয়ে যাবে। যেমন customer, instructor, student, moderator, affiliate,etc!


মোবাইল ফ্রেন্ডলি

একটা সময় ছিল যখন মানুষ কেবল কম্পিউটার থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করত। দিন দিন মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই যুগে ওয়েবসাইট বানানোর সময় গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হয় ওয়েবসাইটটা কি মোবাইল, ট্যাব, পিসি সহ সব ডিভাইসেই সুন্দরভাবে কাজ করছে কিনা! ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করলে এই বোঝা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট যেকোনো ডিভাইস থেকেই ব্রাউজ করা যায়।


ওয়ার্ডপ্রেস বিষয়ে সাহায্য করার মানুষের অভাব নেই!

পৃথিবীতে ৭০ মিলিয়নের বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো। এতো বিশাল ইউজার কম্যুনিটি থাকায় ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে ব্লগ, ফোরাম, রিসোর্সের অভাব নেই! ওয়েবসাইট বানাতে গিয়ে যেকোনো সমস্যায় গুগল করলেই সলুশন সামনে চলে আসবে!


উসাইন বোল্ট, জেমস বন্ড, জাস্টিন বিবার ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন! :p

যেমনটা বলছিলাম- ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ছোট বড় যেকোনো ওয়েবসাইটই বানানো যায়! ছোট বিজনেস থেকে শুরু করে বড় বড় অনেক ব্র্যান্ড তাদের অনলাইন উপস্থিতির জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের উপর আস্থা রাখেন।


এখানে দেখুন আর কোন কোন বড় ব্র্যান্ড ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে!

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন যে কারণে... যেভাবে...
Photo: codeinwp


ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট ইন্সটল করা এবং ম্যানেজ করা সহজ!

আমার মতে এটাই সম্ভবত ওয়ার্ডপ্রেসের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ। আপনাকে ওয়েব ডেভেলপার হতে হবে না, html css php java তে কোড লিখতে পারতে হবে না। (তবে html css এর বেসিক কিছু ধারণা রাখতে পারলে খারাপ কি!)

এছাড়া,

  • ছোট বড় যেকোনো ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন। ছোট থেকে শুরু করে পরে ইচ্ছামত স্কেল-আপ করা যায়।
  • ওয়ার্ডপ্রেস Multiple-Language সাপোর্ট করে তাই বাংলা বা ইংরেজি বা উভয় ভাষাতেই ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।
  • চাইলেই পুরো ওয়েবসাইট অন্য কোনো হোস্টিং কোম্পানির সার্ভারে ট্রান্সফার করতে পারেন।


কোথায় শিখবো ওয়ার্ডপ্রেস? কিভাবে ওয়েবসাইট বানাবো??

বহুব্রীহি-তে বিগিনারদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে হাই কোয়ালিটি কোর্স রয়েছে। সেটি অনুসরণ করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আপনার ওয়েবসাইটের স্ট্রাকচার তৈরি করে ফেলা যাবে।


কোর্সটিতে আমি দেখিয়েছি  কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি পূর্ণাংগ ওয়েবসাইট বানানো যায়। কিভাবে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয়। কিভাবে ওয়েবসাইটের এডমিন প্যানেলে লগিন করতে হয়, পাসওয়ার্ড চেইঞ্জ করতে হয়, ওয়েবসাইটের URL চেইঞ্জ করতে হয়। দেখিয়েছি কিভাবে বিভিন্ন ফ্রি এবং প্রিমিয়াম থীম ব্যবহার করে খুবই স্টাইলিশ ওয়েবসাইট বানানো যায়। ওয়ার্ডপ্রেসের সব চাইতে এক্সাইটিং যে জিনিস-প্লাগিন; হাজার হাজার প্লাগিন থেকে বেছে নিয়ে বিভিন্ন প্লাগিন ইন্সটল করে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ফিচার বা ফাংশন এড করা যায়। কম্পিউটারের জন্য বিভিন্ন সফটয়্যারের যে কাজ, ওয়ার্ডপ্রেসে জন্য বিভিন্ন প্লাগিনেরও সেই কাজ। আমি দেখিয়েছি কিভাবে ২টি উপায়ে ওয়েবসাইটের প্লাগিন ইন্সটল, একটিভেট অথবা ডিএকটিভেট এবং ডিলিট করা যায়।

Promo Video of WordPress Course

একটা ওয়েবসাইট সাধারণত বেশ কয়েকটি পেইজ এবং পোস্ট নিয়ে গঠিত। আমি দেখিয়েছি কিভাবে এসব পোস্ট এবং পেইজ তৈরি করা যায়। কিভাবে পেইজে ছবি এবং অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া ফাইল ইউজ করা যায়। তাছাড়া থীমের বিভিন্ন অপশন চেইঞ্জ করে ওয়েবসাইটের এপিয়ারেন্স নিজেদের পছন্দমত ঠিক করে নিতে শিখিয়েছি।


ওয়ার্ডপ্রেস বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে যাদের নুন্যতম অভিজ্ঞতা নেই, তারাও এই কোর্স থেকে শিখে ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারবেন। আমি প্রতি মাসেই কোর্সে নতুন নতুন ভিডিও আপলোড দিতে থাকবো! কোর্সটিতে এনরোল করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন!

Rate This Article

Leave a Comment

avatar
  Subscribe  
Notify of
Do NOT follow this link or you will be banned from the site!