সেরা ৫টি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ

সেরা ৫টি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ

যত দিন যাচ্ছে প্রোগ্রামিং ও কোডিং-এর প্রতি মানুষের আগ্রহও তত বাড়ছে। এবং এর যৌক্তিক কারণও আছে – এগিয়ে চলা বিশ্বে প্রোগ্রামিং একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। 

কিন্তু, প্রযুক্তি বিষয়ে অল্পবিস্তর ধারণা রাখেন এমন যে কেউই জানেন যে, প্রোগ্রামিং-এর সবচেয়ে বড় একটা অসুবিধে হচ্ছে, এর হাওয়া বদলে যেতে পারে যখনতখন। আর আগে থেকে এই পরিবর্তন আঁচ করাও বেশ কঠিন। আজ যে ল্যাংগুয়েজ রাজত্ব করছে, সেটিই হয়তো কাল হয়ে পড়তে পারে সেকেলে, অপ্রাসঙ্গিক।

তাই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে, আমরা বাছাই করেছি ২০২০ সালের পরিপ্রেক্ষিতে সেরা ৫টি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ।

এই আর্টিকেলটিতে এই ৫টি কোডিং ল্যাংগুয়েজের ভালো-মন্দ, মূল ফিচার, বাস্তব প্রয়োগ, ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ১ঃ পাইথন (Python)

পাইথনের ফীচারসমূহঃ

  • সহজ ও সংক্ষিপ্ত সিন্ট্যাক্স
  • সবার জন্য উন্মুক্ত বিশাল স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রে্রি
  • ওপেন সোর্স কোডিং ল্যাংগুয়েজ

নতুন প্রোগ্রামারদের পছন্দের তালিকায় সবার আগে থাকে পাইথন। জনপ্রিয়তা, কার্যকারিতা, বাজার চাহিদা–সবদিক থেকেই পাইথন রীতিমতো অলরাউন্ডার। প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মানুষ পাইথন শিখছে ও প্রয়োগ করছে। দিন দিন এই কোডিং ল্যাংগুয়েজের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

২০১৯ সালের স্ট্যাক-ওভারফ্লো ডেভলপার সার্ভেতে দেখা যায়, পাইথন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে দ্রু বর্ধনশীল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। 

Growth Chart of Major Programming Languages. Source : Stack Overflow
Growth Chart of Major Programming Languages. Source : Stack Overflow

পপুলারিটি ফর প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ (PYPL)-এর ইন্ডেক্স অনুসারে বিশ্বব্যাপী র‍্যাংকিং-এ সবার শীর্ষে আছে পাইথন।

Popularity of programming languages. Source: PYPL
Popularity of programming languages. Source: PYPL

এখন পর্যন্ত পাইথনের সবচেয়ে ডেকোরেটেড ফিচার খুব সম্ভবত ওয়েব ডেভলপমেন্ট। পাইথন ব্যবহার করে আপনি সহজেই  ওয়েব, মোবাইল কিংবা ডেস্কটপ অ্যাপ বানাতে পারবেন, অ্যাপ টেস্টিং করতে পারবেন। উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্সের মতো ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সহজেই আপনার বানানো অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে এর ক্রস-প্লাটফর্ম ফিচারটির সুবাদে ।

এছাড়াও পাইথন ব্যবহার করে মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কাজ করা যায়। পাইথনের আরেকটি জনপ্রিয় ব্যবহার হলো অটোমেশন। সাড়া-জাগানো অটোমেটেড গাড়িগুলোতেও রয়েছে পাইথনের ব্যবহার। যেকোনো পুনরাবৃত্তিমূলক  কাজের জন্যই স্ক্রিপ্ট লিখে তা অটোমেইট করে ফেলার জন্য পাইথন বেশ উপযোগী।

তবে, পাইথন শুধু যে কোডার বা প্রোগ্রামাররাই ব্যবহার করেন, তা কিন্তু নয়, পাইথন-এর প্রায়োগিক ক্ষেত্র অনেক বেশি বিস্তৃত। 

পাইথন ব্যবহার করে একজন গণিতবিদ যেমন সহজে সমীকরণের সমাধান বের করতে পারেন   বা কমপ্লেক্স প্ল্যানিং করতে পারেন, একজন ডেটা এনালিস্ট তেমনি করতে পারেন ডেটা এক্সট্র্যাকশন । 

গণিতবিদ, বিজ্ঞানী, ডেটা এনালিস্ট, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, একাউন্টেন্ট এমনকি উৎসাহী তরুণদের মধ্যেও ইদানীং একটা “পাইথন ক্রেজ” কাজ  করে।

পাইথনের তুলনামূলক  সরল ও সংক্ষিপ্ত সিন্ট্যাক্স-ই এই তুমুল জনপ্রিয়তার পেছনে মুখ্য ভূমিকা্ রাখছে বলা যায়।

Syntax in Java and Python
Syntax in Java and Python

এছাড়াও, বিশাল লাইব্রেরীর সুবিধা থাকায় বিশেষ করে বিগিনারদের জন্য পাইথন বেশ ভালো একটি অপশন । 

এমনকি IBM, গুগলের মতো বড় বড় কোম্পানিও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর জন্য পাইথন লাইব্রেরি বানিয়েছে।

পাইথনের সুবিধাজনক দিকঃ

  •  বিগিনার-ফ্রেন্ডলি
  • শেখা এবং ব্যবহার করা সহজ
  • দেশে এর মধ্যেই পাইথন ডেভলপারদের একটি বিশাল কমিউনিটি তৈরি হয়ে গেছে
  • পাইথন একটি খুবই মার্কেটেবল স্কিল, আপনি প্রোগ্রামার না হলেও পাইথন জানা থাকলে নিঃসন্দেহে চাকরির দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন।

পাইথনের অসুবিধাজনক দিকঃ

  • নিউমেরিক ডেটা অপারেশনে পাইথন অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের তূলনায় অনেকটা ধীর গতিতে কাজ করে।
  • পাইথন ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপ  করা খুব একটা সুবিধাজনক নয়

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ২ঃ জাভাস্ক্রিপ্ট (JavaScript)

জাভাস্ক্রিপ্টের ফীচারসমূহঃ

  • ক্রস-প্ল্যাটফর্ম কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ।
  • অন্য কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজের ভেতর জাভা স্ক্রিপ্ট এম্বেড করে লেখা যায়।
  • বিল্ট-ইন ফিচার যা সময় ও তারিখ নির্ধারন করতে পারে।
  • কেইস সেনসিটিভ।
  • ইউজারের ব্রাউজার ও অপারেটিং সিস্টেমের তথ্য নির্ধারণ করতে পারে।

শুরুতেই বলে নিই, স্ট্যাক ওভারফ্লো-এর সার্ভে অনুযায়ী জাভাস্ক্রিপ্ট হলো বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ। 

Programming Language Popularity Graph. Source: Stack Overflow
Programming Language Popularity Graph. Source: Stack Overflow

১৯৯৫ এ নেটস্পেস কমিউনিকেশন্সের হাতে জাভাস্ক্রিপ্টের সূচনা। শুরু থেকেই এই কোডিং ল্যাংগুয়েজটি ডেভেলপারদের কাছে একটি ডায়নামিক মিডিয়াম হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এই কোডিং ল্যাংগুয়েজটি ব্যবহার করে আপনি যেকোনো ওয়েব পেইজকে করে তুলতে পারেন ডায়নামিক ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি। এক কথায়, ইন্টারএক্টিভ ওয়েব পেইজ ডিজাইনিং-এর জন্য জাভাস্ক্রিপ্টের জুড়ি নেই।

তবে জাভা স্ক্রিপ্ট কিন্তু শুধু ওয়েব পেইজেই সীমাবদ্ধ নয়। স্মার্ট টিভি, ইন্টার্নেট অব থিংস থেকে শুরু করে অ্যাপ ডেভলপমেন্টেও জাভাস্ক্রিপ্ট কার্যকরী একট কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ। জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে ক্রস প্ল্যাটফর্ম ডেস্কটপ অ্যাপলিকেশনও তৈরি করা যায়। 

গেমিং অ্যাপ-এর জগতে জাভাস্ক্রিপ্ট তুলনাহীন। অন্য যেকোনো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের পাশাপাশি যদি জাভাস্ক্রিপ্ট জানা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার ফিল্ডে এগিয়ে থাকবেন। জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে সহজেই অসাধারণ গ্রাফিক্স ও ভিজুয়াল ইফেক্ট তৈরি করা যায়, যা যেকোনো গেমিং অ্যাপ ডেভলপারের জন্য একটি অনবদ্য স্কিল।

ভার্সেটাইল, শক্তিশালী এবং বিগিনার-ফ্রেন্ডলি হওয়ার পাশাপাশি জাভাস্ক্রিপ্ট ভীষণ সম্ভাবনাময়। সময়ের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটালাইজেশনের দিকে ঝুঁকছে, আর তাই কর্মীবহরেও তারা চাইছে জাভাস্ক্রিপ্টের মতো পরিচিত কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজের দক্ষতা।

জাভাস্ক্রিপ্টের সুবিধাজনক দিকঃ

  • ইন্টারপ্রেটেড ল্যাঙ্গুয়েজ হওয়ায় প্রোগ্রাম কম্পিলেশনে জাভা স্ক্রিপ্ট কম সময় নেয়।
  • জাভা স্ক্রিপ্ট দিয়ে ফ্রন্ট এন্ড ও ব্যাক এন্ড দুই ধরনের ডেভেলপমেন্ট কাজই করা যায়।
  • প্রায় সব ব্রাউজারই জাভা স্ক্রিপ্ট সাপোর্ট করে।
  • শেখা ও কাজে লাগানো সহজ
  • জাভার তুলনায় সহজ সিন্ট্যাক্স। 

জাভাস্ক্রিপ্টের অসুবিধাজনক দিকঃ

  • প্রতিটি ব্রাউজার জাভা স্ক্রিপ্ট কোড ভিন্নভাবে ইন্টারপ্রেট করে, তাই যেকোনো প্রোগ্রাম পাবলিশ করার আগে একাধিক প্লাটফর্মে চালিয়ে দেখতে হয়।
  • ডিবাগিং সুবিধার অভাব।
  • নেটওয়ার্ক অ্যাপলিকেশনের জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা যায় না।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ৩ঃ জাভা (Java)

জাভার ফীচারসমূহঃ

  • অব্জেক্ট ওরিয়েন্টেড
  • জাভা কম্পাইলার জাভা কোডকে বাইট কোডে রুপান্তর করে যা পরবর্তীতে জাভা ভার্চুয়াল মেশিনের মাধ্যমে চলে, তাই অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের তুলনায় জাভা অনেকটাই বহুমুখী ।
  • জাভা বাইটকোডগুলো যেকোনো কম্পিউটার আর্কিটেকচারেই চলতে পারে। 

জাভা কোথায় ব্যবহার করব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাকে বেশিদূর যেতে হবে না।  

আপনার হাতের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটির যে অ্যাপগুলো ছাড়া আপনার চলেই না, সেগুলোর বেশিরভাগ কিন্তু জাভা কোডেই লেখা। Spotify, Twitter, ইত্যাদিঢ় নাম নেওয়া যায়। এমনকি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটিও কিন্তু জাভা কোডেই লেখা।

Google Trends -এর ইনপুট থেকেই বোঝা যাচ্ছে জাভার জনপ্রিয়তা কতটা স্থিতিশীল।

Popularity of “Java” on google trends
Popularity of “Java” on google trends

জাভা একটি শক্তিশালী ওপেন সোর্স ক্রস-প্ল্যাটফর্ম কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ । তবে কেবল উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিন্যাক্সেই জাভা সীমাবদ্ধ নয়। প্রোগ্রামিং জগতের বাইরেও জাভার ব্যাপক ব্যবহার চোখে পড়ে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে। অনেক ই-কমার্স সার্ভিসের ওয়েব অ্যাপলিকেশনই জাভা দিয়ে তৈরি। 

ফিন্যানশিয়াল অ্যাপ-এর ক্ষেত্রেও জাভা এগিয়ে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড, সিটিগ্রপ সহ আরও অনেক ব্যাংকই তাদের ফ্রন্ট ও ব্যাক-এন্ড ইলেক্ট্রনিক ট্রেডিং-এর জন্য জাভা ব্যবহার করে থাকে।

নির্ভরযোগ্য, সহজ ও লাইটওয়েট হওয়ায় বেশির ভাগ সফটওয়্যারই জাভা কোডে লেখা হয়। যেমন –  Eclipse, IntelliJ Idea, Netbeans IDE, ইত্যাদি। এমনকি নাসার সফটওয়্যার Word Wind-ও কোড করা হয়েছে জাভা ব্যবহার করে ।

জাভা আয়ত্ত করতে পারলে আর যাই হোক, ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত সব নতুন সুযোগের অভাব হবে না, এটা কিন্তু বলাই যায় ।

জাভার সুবিধাজনক দিকঃ

  • জাভা ব্যবহার করে কোড লেখা, কম্পাইল করা ও ডিবাগিং করা সহজ।
  • একসাথে অনেকগুলো টাস্ক প্রোগ্রাম ও পারফর্ম করার সুবিধা আছে।
  • যেকোনো প্ল্যাটফর্মে চলতে পারে।

জাভার অসুবিধাজনক দিকঃ

  • সি/সি++ এর তুলনায় জাভা অনেকটা ধীর গতিতে কাজ করে এবং সাধারণত বেশি মেমোরি দখল করে। 
  • সিন্ট্যাক্স অন্যান্য কোডিং ল্যাংগুয়েজের তুলনায় জটিল এবং শব্দবহুল।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ৪ঃ সি++ (C++)

সি++ এর ফীচারসমূহঃ

  • মেশিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ অর্থাৎ যেকোনো মেশিনেই সি++ ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে কোড করা প্রোগ্রামটি চলবে।
  • বিল্ট-ইন ফাংশন লাইব্রেরী। 
  • সি++ ল্যাংগুয়েজের প্রোগ্রাম কম্পিলেশন ও এক্সেকিউশন তুলনামুলকভাবে দ্রুত কাজ করে। 

যদি প্রশ্ন ওঠে প্রোগ্রামিং দুনিয়ার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে কোন ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে, তাহলে যে নামটি আসবে সেটি হলো সি ল্যাংগুয়েজ। আপনি হয়তো ভাবছেন,এই ২০২০-এ এসেও কি সি/ সি++ ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার দরকার আছে আদৌ? উত্তর নির্ভর করছে আপনার ক্যারিয়ার লক্ষ্য কী তার ওপর।

আপনি যদি প্রোগ্রামিং এর উপর দখল ও  দক্ষতা বাড়াতে চান তাহলে সি/সি++ শেখার বিকল্প নেই।

সি++ হলো সি ল্যাংগুয়েজের কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো একটি হাইব্রিড ধাঁচের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। সি-এর সব ফিচারের পাশাপাশি সি++ এ আছে কিছু বর্ধিত ফিচার। সি++ অব্জেক্ট-ওরিয়েন্টেড, লাইটওয়েট এবং অপেক্ষাকৃত দ্রুত।

আর, পুরনো মানেই কিন্তু সেকেলে না। TIOBE এর ইন্ডেক্স অনুযায়ী এ মাসের সবথেকে জনপ্রিয় ৫টি কোডিং লঙ্গুয়েজের মধ্যে একটি সি++।

Programming language popularity index. Source: TIOBE
Programming language popularity index. Source: TIOBE

সি++ লোয়ার লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ হওয়ায় বিগিনার ফ্রেন্ডলি নয়। সি++ শিখতে অবশ্যই অন্যান্য কোডিং ল্যাংগুয়েজের তুলনায় সময় কিছুটা বেশি লাগবে কেননা আপনাকে অনেক কোড শিখতে হবে।

তবে সঠিকভাবে শিখে ফেলতে পারলে এর কার্যকারিতা কিন্তু অসাধারণ। সি++ থেকে আপনি ব্যাক- এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত ধারণা পাবেন । এছাড়া, গেমিং জগতে সি++ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্কিল। 

চোখ ধাঁধানো গ্র্যাফিক্স ব্যবহার করে আকর্ষণীয় সব গেইম ডেভেলপ করতে সি++ সবচেয়ে ভালো অপশন। সি++ এর স্কেইলিবিলিটি এরকম হেভি প্রোগ্রামিংকে যথার্থ সাপোর্টও দিতে পারে। এতে করে আপনার প্রোগ্রামটিতে আপনি পরেও নতুন কমপ্লেক্স ফিচার বা কোড যোগ করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

সি++ এর আরেকটি বড় সম্ভাবনার জায়গা হলো সিস্টেম ডেভলপমেন্ট। যেকোনো অপারেটিং সিস্টেম কোড করতেই সি/সি++ দরকার হয়। 

সি++ এর অন্যতম একটি সুবিধা হলো এতে আপনার বানানো প্রোগ্রামটি কিভাবে, কতোখানি রিসোর্স ব্যবহার করবে তা আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।

সি++ এর সুবিধাজনক দিকঃ

  • এক্সটেন্ডেবল লাইব্রেরি
  • ভালো কমিউনিটি সাপোর্ট

সি++ এর অসুবিধাজনক দিকঃ

  • শেখা ও আয়ত্ত করা সময়সাপেক্ষ।
  • সি++ দিয়ে লেখা প্রোগ্রাম স্কেইল করতে সাধারণত অনেক সময় লাগে।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ৫ঃ সুইফট (Swift)

সুইফট এর ফীচারসমূহঃ

  • General Purpose Language অর্থাৎ সুইফট ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অ্যাপ বানানো সম্ভব
  • ফাংশনাল প্রোগ্রামিং প্যাটার্ন
  • বিল্ট-ইন ইরর হান্ডেলিং টেকনলজি 

২০১৪ সালে Apple Inc.  প্রথম সুইফট চালু করে। তারপর ২০১৭ সালে আরও নতুন ফিচার ও আপডেট নিয়ে বাজারে আসে swift 4.0 ।

অ্যাপল-এর এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের টার্গেট প্লাটফর্ম হলো iOS,  iOS, macOS, watchOS, tvOS, এবং Linux।

বিশ্বব্যাপী অ্যান্ড্রয়েডের বাজার শেয়ার বেশি হলেও দিনে দিনে অ্যাপল এর পণ্য কিন্তু জনপ্রিয়তার দিক থেকে সে জায়গাটা দখল করে নিচ্ছে। অ্যাপল ও IBM-এর যৌথ প্রচেষ্টায় খুব অল্প সময়েই সুইফট হয়ে উঠেছে iOS অ্যাপ ডেভেলপারদের এক নম্বর পছন্দ।

মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই TIOBE এর ইন্ডেক্সে জায়গা করে নিয়েছে সুইফট।

Programming language popularity index. Source: TIOBE
Programming language popularity index. Source: TIOBE

Google Trends-ও প্রায় একই প্রবণতা দেখাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সুইফট তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

Popularity of “Swift” on google trends
Popularity of “Swift” on google trends

সুইফট যেমন শেখা যায় দ্রুত, এর প্রয়োগও বেশ সহজ। সুইফট শিখে অ্যাপ ডেভেলপ করে আপনি প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন। করতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং-ও। ফ্রিল্যান্স ডেভলপারদের কাছে সুইফট-এর গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। 

অ্যাপল ও IBM-এর যৌথ কর্পোরেট সাপোর্টের সুবাদে সুইফট এপর্যন্ত সবথেকে বেশি এক্টিভ কমিউনিটি অর্জন করেছে। সুইফট ডেভলপার কমিউনিটি অপেক্ষাকৃতভাবে ছোট হলেও দিন দিন সুইফট ডেভলপারদের চাহিদা বাড়ছে।

সুইফট এর সুবিধাজনক দিকঃ

  • শেখা ও ব্যবহার করা সহজ
  • Scalable অর্থাৎ পরবর্তীতে নতুন অ্যাডভান্সড ফিচার কোড করা নিয়ে আপনাকে সমস্যায় পড়তে হবে না।
  • অটোমেটেড মেমোরি ম্যানেজমেন্ট।

সুইফট এর অসুবিধাজনক দিকঃ

  • সুইফটের প্রথমদিকের ভার্সনগুলোতে গতি নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা ছিল।
  • তুলনামূলক নতুন ল্যাংগুয়েজ হওয়ায় এর নেটিভ লাইব্রেরি এখনো ছোট। 

তো, সময়ের সেরা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজগুলোর সুবিধা-অসুবিধা, বিশেষত্ব- সব তো জানলেন। তো এখান থেকে আপনার সুবিধা ও মনমতো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি বেছে নিয়ে শেখা শুরু করে দিতে পারেন।

আমাদের পরামর্শ থাকবে, যেকোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ কোডিং ল্যাংগুয়েজ শিখে ফেলুন, এতে আপনার ক্যারিয়ার গ্রোথের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে অনেকগুণে।

“Always code as if the guy who ends up maintaining your code will be a violent psychopath who knows where you live” – John F. Woods

আশা রাখবো, আপনিও উডস সাহেবের কথামতো নিছক নামেমাত্র প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ না শিখে সত্যিকার অর্থেই রপ্ত করার চেষ্টা করবেন।  

Tanjila Akter Mim
3.7 13 votes
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
most voted
newest oldest
Inline Feedbacks
View all comments
Moin
Moin
July 3, 2020 9:07 pm

5th language ar sathe akmot na ?

Someone
Someone
July 19, 2020 5:42 pm

Php is missing