“আরে সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকি, কিন্তু পড়া হয় না”-পরীক্ষার আগে বন্ধুদের কাছে এমন অনুযোগ আমরা প্রায় সবাই করেছি। মনযোগ ধরে রেখে দীর্ঘক্ষণ পড়ালেখা করাটা ছোটবেলায় যেমন কঠিন ছিল, বড় হয়ে তা আরও কঠিন হয়েছে। তবে সময়ের সাথে সাথে পড়ায় মন না বসার পেছনের কারণগুলো তে এসেছে পরিবর্তন। তাই পড়ালেখার গতানুগতিক স্ট্র্যাটেজির সাথে নতুন কিছু টেকনিক ফলো করতে পারো।

যদি পরীক্ষার এক মাস বাকি থাকে

১। ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক

কানে হেডফোন লাগিয়ে Instrumental Music ছেড়ে দাও। তবে গান শুনবে না, গানের প্রতিটি শব্দই ডিস্ট্র্যাকশন তৈরি করবে। ইউটিউবে Peaceful Background Music লিখে সার্চ করতে পারো। আমার পছন্দের একটি প্লেলিস্ট শেয়ার করছি এখানে।

২। পমোডোরো টেকনিক

২৫ মিনিট করে স্টাডি করো, তারপর ৫ মিনিট রিল্যাক্স করো। তারপর আবার ২৫ মিনিট স্টাডি, তারপর ৫ মিনিট ব্রেক। প্রতি ২৫ মিনিট পড়ালেখা=১ পমোডোরো, এভাবে প্রতি চার পমোডোরো পর পর ১৫ মিনিট করে বিরতি নাও।

৩। ডিসট্র্যাকশন অ্যাপ

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব আর ইন্টারনেটেই কিন্তু আমাদের সবথেকে বেশি সময় অপচয় হয়, পড়ালেখার মনযোগ নষ্ট হয়। তাই পড়ার সময়ে ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকাটা জরুরী। সেক্ষেত্রে কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারোঃ

    SelfControl- ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত স্পেসিফিক কিছু ওয়েবসাইট ব্লক করে রাখে।

    Cold Turkey- স্পেসিফিক কিছু ওয়েবসাইট ব্লক করে রাখে, কতক্ষন ব্লক করে রাখবে সেটা তুমি সেট করতে পারো।

    Freedom- তোমাকে ইন্টারনেট থেকেই দূরে রাখবে।

৪। জায়গা পরিবর্তন

এক দল কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী ২টি রুমে পালা করে লেখাপড়া করেছে, তারা বাকিদের চেয়ে ২০% বেশি তথ্য মনে রাখতে পেরেছে। কাজেই সব সময় এক জায়গায় বসে পড়ালেখা না করে জায়গা পরিবর্তন করো। তবে অবশ্যই আরামদায়ক কোনো স্থানে বসে পড়বে না। সোফা, বিছানা, বালিশে শুয়ে-বসে পড়বে না; এতে ঘুম আসে আর মনযোগ নষ্ট হয়।

৫। হালকা ব্যায়াম

বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত, পড়ার ফাঁকে ফাঁকে হালকা ব্যায়াম পড়ালেখায় মনযোগ বৃদ্ধি করে।

যদি পরীক্ষার এক দিন বাকি থাকে

৬। কিউট ভিডিও

হ্যা, শুনতে অবাক লাগতে পারে, তবে আদুরে বাচ্চা অথবা কিউট বিড়াল, পান্ডা ইত্যাদি প্রাণীর ছবি তোমার ফোকাস করার ক্ষমতা বাড়াবে।

৭। আমিষ

আমাদের মস্তিষ্ক নিজের মধ্যে এমাইনো এসিডের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। এমাইনো এসিড আসে প্রোটিন থেকে; তাই সকালের নাস্তায় প্রোটিন জাতীয় কিছু খেলে ব্রেনের কার্যক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতাও কমে আসে।

৮। চেকলিস্ট

পরদিন পরীক্ষায় কি কি জিনিস নিয়ে যেতে হবে তার একটা চেকলিস্ট তৈরি করো। পরীক্ষার দিন বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ৩ বার চেকলিস্ট থেকে মিলিয়ে দেখবে সব ঠিকঠাক নিয়েছো কিনা।

৯। শেষ মুহুর্তের অস্থিরতা

পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে, বা পরীক্ষার দিন সকালে নতুন করে কিছু পড়তে যেয়ো না। পুরোনো পড়াগুলোও খুব দ্রুত রিভাইস করার চেষ্টা করে ব্রেইনকে প্রেশার দিও না। স্থির থাকো, ব্রেইনকে রেস্ট নিতে দাও, যতটুক পড়া হয়েছে ততটুক নিয়ে কনফিডেন্ট থাকো।
পরীক্ষার দিন সকালে একটা দুটো প্র্যাকটিস প্রব্লেম হয়ত সলভ করতে পারো, অথবা সূত্রগুলো রিভাইস করতে পারো, এর বেশি একদমই না!

১০। ঘুম আর এলার্ম

সবাই এই উপদেশ দেয়, আমিও দিচ্ছি- ঘুমাও। রাত জেগে না পড়ে কমপক্ষে ৭ ঘণ্টার ফ্রেশ একটা ঘুম দিয়ে উঠো। এলার্ম দিতে ভুলো না, একাধিক মোবাইল বা ঘড়ি থেকে এলার্ম দাও। আর এলার্ম ক্লক হাতের নাগালের বাইরে রেখে ঘুমাও, যাতে সকালে চাইলেই অলসতাবশত Snooze বাটন চাপতে না পারো!

উপরের ১০টি টেকনিকের মধ্যে কিছু হয়ত তোমরা অলরেডি ফলো করতে শুরু করেছো, কমেন্টে আমাদের জানাও কার কোনটা কাজে লেগেছে। নতুন কোনো টেকনিক পেলে তাও জানাও আমাদের, পোস্টে এড করে দিবো। আর এই আর্টিকেলটি উপকারি মনে হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো।তোমার পরীক্ষার জন্য শুভকামনা রইল!

Rate This Article

Leave a Comment

avatar
  Subscribe  
Notify of
Do NOT follow this link or you will be banned from the site!