সেলফ-প্রোমোশন নাকি নিজের ঢোল নিজে পেটানো?

সেলফ-প্রোমোশন নাকি নিজের ঢোল নিজে পেটানো?

কথায় আছে, নিজের ঢোল অন্য কেউ না পেটালে নিজেকেই পেটাতে হয়। শুনতে একটু কেমন শোনালেও সত্যিই তো, আপনাকে আপনার চেয়ে বেশি ভালোভাবে আর কে চেনে? নিজের ঢোল পেটানো মানে হল সেলফ-প্রোমোশন। সেলফ-প্রোমোশন এর  খুঁটিনাটিসহ তিনটি প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এই আজকের এই আর্টিকেল।

সেলফ-প্রোমোশন কী?

ইন্টারভিউ ট্রিকসের ব্যাপারে অনেকে এই কথাটি শুনে থাকবেন যে, চাকরি পেতে হলে ইন্টারভিউ বোর্ডে নিজেকে সেল করতে হয়। এখানে নিজেকে সেল করা মানেই সেলফ-প্রোমোশন। প্রশ্ন হল, নিজেকে কীভাবে সেল করবেন? তার আগে বলে নিই, নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের গুণগুলো অন্যের কাছে (পড়ুন ‘উপযুক্ত জায়গায় ও উপযুক্ত সময়ে’) তুলে ধরা সেলফ-প্রোমোশনের সংজ্ঞা।

ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, কোথায় লাগে না এই সেলফ-প্রোমোশন?

কেন সেলফ-প্রোমোশন জরুরি?

ধরা যাক একটি চাকরির জন্য একই যোগ্যতার একাধিক প্রার্থী আবেদন করলেন। প্রার্থীর নিজেকেই প্রমাণ করতে হবে যে কেন এই চাকরির জন্য তিনি উপযুক্ত, কেন তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে কোম্পানি খুঁজছে, কী কী গুণাবলির কারণে তিনি এগিয়ে আছেন অন্যদের চেয়ে। এই কাজটি যে যত ভালোভাবে করতে পারবেন, তিনিই চাকরিটি পাবেন। প্রার্থী নিজেকে কীভাবে প্রেজেন্ট করছেন একমাত্র সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সেলফ-প্রোমোশনের মাধ্যমে প্রার্থী এমনভাবে সিগন্যাল দিচ্ছেন যাতে করে অপরপক্ষের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়।

কীভাবে স্মার্টলি নিজেকে প্রোমোট করবেন?

ভুল বা অতিরঞ্জিত সেলফ-প্রোমোশন অডিয়েন্সকে ভুল তথ্য দিতে পারে। নিজেকে নিয়ে আপনার বক্তব্য যদি দাম্ভিক মনে হয়, তবে স্বভাবতই অপরপক্ষের জন্য এটি বিরক্তির উদ্রেক করবে। তাহলে সেলফ-প্রোমোশনের সঠিক উপায় কী? সেলফ-প্রোমোশনের তিনটি সূত্র যা আমি মেনে চলিঃ

১। আগে নিজেকে জানুন, আত্মবিশ্বাস রাখুন!

অন্যের সামনে প্রোমোট করার আগে নিজেকে জানা জরুরি। ভেবে দেখুন তো, কোন কাজটায় আপনি সেরা, কেন আপনি নিজেকে অসাধারণ মনে করেন, অথবা আজ পর্যন্ত আপনার অর্জনগুলি কী কী ছিল? এবার একটি কাগজে আপনার উত্তরগুলো লিস্ট করে ফেলুন এবং জোরে উচ্চারণ করে নিজেকে পড়ে শোনান।

এই সহজ পদ্ধতিটি আপনাকে আপনার দক্ষতা ও অর্জন সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে। আত্মবিশ্বাসী আপনি পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সেলফ-প্রোমোটের সুযোগ পেয়ে যাবেন।

২। আপনার অবদান শেয়ার করুন, অর্জন না!

অডিয়েন্সের কাছে আপনার অর্জনের চেয়ে আপনার অবদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কোম্পানিতে আপনার সফলতা মানে কোম্পানিরও সফলতা, তাই সেই সফলতার গল্পই প্রচার করুন। আপনি কী কী দক্ষতা প্রয়োগ করেছেন তার চেয়ে বেশি ইন্টারেস্টিং শোনাবে আপনার কাজের ফলাফল কী ছিল, অথবা কোম্পানির তাতে কী উপকার হয়েছে।

৩। Facts না, আপনার গল্প শোনান!

আপনার কাছে আপনার অর্জনের ফ্যাক্টসগুলো যতই ইন্টারেস্টিং শোনাক, অডিয়েন্স কিন্তু পছন্দ করে গল্প শুনতে। এমনভাবে গল্পটি তুলে ধরুন যেন অডিয়েন্স আপনার গল্পের সাথে নিজেকে মেলাতে পারে এবং দীর্ঘদিন আপনাকে মনে রাখে। 

সব অর্জনই যে আপনার একার তা কিন্তু নয়। আশেপাশের সকলের সহযোগিতা ছাড়া হয়ত অনেককিছুই সম্ভব হত না, তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। কৃতজ্ঞতা স্বীকার আপনাকে বরং আরও বড় করবে। পরিবার ও আপনজনদের পাশাপাশি টিমমেটদেরও শুভেচ্ছা প্রাপ্য। এতে এটাও বোঝা যাবে যে আপনি একজন টিম-প্লেয়ার, যা আপনার বসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অডিয়েন্স কতটুকু শুনতে চায় তা বোঝাও জরুরি, একই অর্জনের কথা বারবার বলা বিরক্তির কারণ হতে পারে। এগুলো অনুসরন করলে সেলফ-প্রোমোশন আর শো-অফ মনে হবে না। তবে শুধু কথায় নয়, কাজেও ফুটে উঠুক আমাদের দক্ষতা। কারণ Actions speak louder than words! 

মোট কথা, সেলফ-প্রোমোশন মানে মোটেও আত্ম-কেন্দ্রীক হওয়া নয়, বরং এটি নিজেকে নিবেদন করার একটি উপায়।

3.8 10 votes
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments