You are currently viewing বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ ও তাদের সুবিধা – অসুবিধাসমূহ

বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ ও তাদের সুবিধা – অসুবিধাসমূহ

প্রতি বছরই মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। দিনের বেশ অনেকটা সময় এখন আমরা আমাদের স্মার্ট ডিভাইসে কাটাই এবং সেই সময়টা জুড়ে থাকে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ। Facebook, Gmail, Twitter, Camera+ এই সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল অ্যাপ। তবে নামে সবগুলো মোবাইল অ্যাপ হলেও এদের ধরণ ভিন্ন। 

বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ ও তাদের সুবিধা অসুবিধা গুলো নিয়ে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। তাই আজকের আর্টিকেলে চেষ্টা করব মোবাইলে ডিভাইসে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ, তাদের ধরণ, ও বিশেষত্বগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে।

নেটিভ মোবাইল অ্যাপ

Native মানে প্রকৃতিগত, সহজাত, নিজের। Native App গুলোও সেরকম একটি মোবাইল বা ট্যাবলেটের অপারেটিং সিস্টেমের সহজাত। অর্থাৎ এই অ্যাপগুলো এমন ভাবে ডেভেলপ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমে চলতে পারে। এগুলো অ্যাপেল স্টোর, গুগল প্লে স্টোরের মতো অ্যাপ স্টোর গুলো থেকে ডাউনলোড করতে হয়।

যেমন – অ্যাপেলের iMessage, iMovie, Camera+ অ্যাপগুলো শুধু অ্যাপেল ডিভাইসগুলোতেই চলে। তাই এই অ্যাপগুলোকে বলা যায় ios Native App.

নেটিভ অ্যাপ গুলো অন্যান্য মোবাইল অ্যাপের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং কার্যতঃ এর কিছু বাড়তি সুবিধা আছে।

NATIVE APP-এর সুবিধাসমূহঃ

১। Native app গুলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে ডিভাইসের রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারে। আর তাই এসব অ্যাপের পারফর্মেন্স বেশ দ্রুত ও ভালো হয়।

২। এই ধরনের অ্যাপ মোবাইলের হার্ডওয়্যারের সাথে কানেক্ট হতে পারে এবং এ কারণে মোবাইলের Bluetooth, phonebook সহ বিভিন্ন ফিচার সরাসরি ব্যবহার করতে পারে।

৩। ডিভাইসের UI ব্যবহার করায় এইসব অ্যাপ বেশ ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করতে পারে।

NATIVE APP-এর অসুবিধাসমূহঃ

১। এইসব অ্যাপ নির্দিষ্ট ডিভাইস ইউজাররা ব্যবহার করতে পারে। আর তাই অন্যরা এর থেকে বঞ্চিত হয়।

২। আবার ভিন্ন আপারেটিং সিস্টেমের জন্য বানাতে চাইলে খরচ অনেক বেড়ে যায় এবং ডেভেলপমেন্টে সময় ও বেশি লাগে।

৩। দুই ধরনের প্লাটফর্মে অ্যাপ মেইনটেইন করা এবং আপডেট করা বেশ কষ্টকর।

ব্যবহৃত টেকনলোজিঃ

  • iOS

IOS Native App গুলো Objective C ও Swift কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে বানানো হয়। React Native ব্যবহার করেও iOS Native App ডেভেলপ করা যায়।

  • Android

Android Mobile App ডেভেলপমেন্টের জন্য অনেকটা সময় ধরে Java, Flutter ও Kotlin এর মতো Language এবং ফ্রেমওয়ার্ক গুলো ব্যবহার করা হয়। আর এখন React Native দিয়েও Android App বানানো যায়।

মোবাইল ওয়েবসাইট / ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলো মোবাইল ডিভাইসে ইন্সটল করা কোনো অ্যাপ না। এগুলো এমন কিছু ওয়েবসাইট যেগুলো মোবাইলের ওয়েব ব্রাউজারের সাহায্যে চালাতে হয়।

এই মোবাইল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন গুলোর সাথে গতানুগতিক ওয়েবসাইটগুলোর তফাৎ হলো – অ্যাপ্লিকেশন ওয়েবসাইট গুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন ইউজার ডিভাইসের স্ক্রিনের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে।

জনপ্রিয় ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে আছে Gmail, Yahoo, Google Cloud, Mailchimp, Dropbox।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন-এর সুবিধাসমূহঃ

১। মোবাইল অ্যাপগুলোর মতো এই সাইটগুলোও মোবাইল-রিস্পন্সিভ। এর মানে সাধারণ কন্টেন্ট দেখার পাশাপাশি ক্লিক-টু-কল এর মতো মোবাইল ফিচারগুলোও এই সাইটে ব্যবহার করতে পারবেন।

২। এই অ্যাপগুলো ওয়েব বেইজড হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেম বা প্ল্যাটফর্ম অনুসারে কাস্টমাইজ করার প্রয়োজন হয় না। আর এতে ডেভেলপমেন্ট খরচ কমে।

৩। ওয়েব বেইজড হওয়ার আরেক সুবিধা হল যেকোনো ডিভাইজ ব্যবহারকারীই এসব অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে।

৪। এইসব অ্যাপ ইউজার ডিভাইসের মেমোরির জায়গা দখল করে না এবং মেইনটেইনেন্সও বেশ সহজ করে। আপডেটেড ভার্শন ইউজার অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে হয় না, ওয়েবসাইটেই এই আপডেট করে নেয়া যায়।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন-এর অসুবিধাসমূহঃ

১। ওয়েব অ্যাপগুলো সম্পূর্ণভাবে ওয়েব ব্রাউজার এর উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে দেখা যায় ব্রাউজারভেদে ইউজাররা সব ফিচার ব্যবহার করতে পারে না।

২। মোবাইল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন গুলো সবসময় Native App এর মত অফলাইন ব্যবহার করা যায় না। আর অফলাইন মোড থাকলেও ডিভাইসে অ্যাপের ডেটার ব্যাকআপ রাখার জন্য কিংবা স্ক্রিন রিফ্রেশের জন্য ইন্টারনেট কানেকশন দরকার হয়।

ব্যবহৃত টেকনলোজিঃ

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে HTML5, CSS, JavaScript, Ruby, Python, php, scala ইত্যাদি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ল্যাঙ্গুয়েজগুলো ব্যবহার করা হয়।

হাইব্রিড মোবাইল অ্যাপ

Hybrid মোবাইল অ্যাপগুলো Native ও Web অ্যাপের একটা সংমিশ্রণ। 

নেটিভ অ্যাপ নির্দিষ্ট অ্যাপ মার্কেটপ্লেস থেকে ডাউনলোড করতে হয় এবং অ্যাপটি আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার অ্যাক্সেস করে চলে। আর Web App হল লোকাল সার্ভার ছাড়া ওয়েবে হোস্ট করা যেকোনো  অ্যাপ। 

আর হাইব্রিড অ্যাপের অবস্থান এই দুইয়ের ঠিক মাঝামাঝি। Native App এর মতোই এই হাইব্রিড অ্যাপগুলো একটি অ্যাপ মার্কেটপ্লেস থেকে ডাউনলোড করতে হয়, বেশ দ্রুত কাজ করে। কিন্তু দেখতে এবং কাজের দিকে native app এর সাথে মিল থাকলেও এগুলো মূলত ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন।  

একটি জনপ্রিয় হাইব্রিড অ্যাপের উদাহরণ হলো –  Instagram, Quora, UBER.

হাইব্রিড মোবাইল অ্যাপ-এর সুবিধাসমূহঃ

১। হাইব্রিড অ্যাপ গুলোর ডেভেলপমেন্ট সময় ও অর্থের দিক দিয়ে সাশ্রয়ী।

২। যেহেতু এসব অ্যাপ বেশ দ্রুত লোড হওয়ার ক্ষমতা রাখে, তুলনামূলক ধীরগতির ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেও ইউজার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে।

৩। হাইব্রিড অ্যাপের একটি বিশেষ দিক হলো এটি প্রোগ্রামারদের এমন কোড লেখার সুযোগ দেয় যা যেকোনো প্ল্যাটফর্মে চলবে। অর্থাৎ, একটি হাইব্রিড অ্যাপ Android, ios এবং Windows এর মত ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলতে পারবে নির্দ্বিধায়।

৪। ডেভেলপাররা খুব সহজেই হাইব্রিড অ্যাপ আপডেট করতে পারেন। এসব অ্যাপে কোনো আপডেট করতে চাইলে অ্যাপ স্টোর বা প্লে স্টোরের অপেক্ষা না করে সরাসরি পরিবর্তন আনা যায়।

হাইব্রিড মোবাইল অ্যাপ-এর অসুবিধাসমূহঃ

১। হাইব্রিড অ্যাপগুলো অফলাইন মোডে ব্যবহার করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে শুধু অ্যাপের native অংশ কাজ করে। ডেটা আপডেটের জন্য কিংবা অ্যাপ রিফ্রেশ করতে ইন্টারনেট কানেকশন দরকার হয়।

২। হাইব্রিড অ্যাপে চাইলেও ইউজারের চাহিদামতো সব ফিচার দেয়া যায় না। কারণ ios ও android এর নিজস্ব কিছু ফিচার থাকে। আর দুই ধরনের ফিচার মিলিয়ে পারফেক্ট হাইব্রিড মোবাইল অ্যাপ বানানো সম্ভব হয় না।

ব্যবহৃত টেকনলোজিঃ

ওয়েব টেকনলোজি ও native API এর সংমিশ্রণ হল হাইব্রিড অ্যাপ্লিকেশন টেকনলোজি। এসব অ্যাপে ReactJS, Ionic, Objective C, Swift, HTML5 ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

পরিশেষে

বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে। আপনি কোন ধরনের অ্যাপ ডেভেলপ করতে চান তা নির্ভর করবে বেশ কিছু ফ্যাক্টরের উপর। 

প্রথমেই ভাবতে হবে আপনার অ্যাপটি কি কাজে ব্যবহৃত হবে এবং আপনার অডিয়েন্স কারা। আপনার অডিয়েন্সের যদি আপনার অ্যাপের নিয়মিত আপডেটের উপর নির্ভরশীল হয়, সেক্ষেত্রে হাইব্রিড কিংবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ভালো অপশন হতে পারে।  এরপর বিবেচনায় আসবে সময় ও রিসোর্স।

নেটিভ অ্যাপ বানাতে চাইলে আপনার আলাদাভাবে android ও ios ভার্শন বানাতে সময় বেশি লাগবে। আবার সবচেয়ে কম সময়ে আপনি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে নিতে পারবেন। 

এভাবেই সব ধরনের অ্যাপের সুবিধা অসুবিধার সাথে আপনার নিজের অ্যাপের চাহিদা মিলিয়ে যেকোনো এক ধরনের অ্যাপ বাছাই করে নিতে হবে। 

0 0 votes
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments