You are currently viewing অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক – সুবিধা ও অসুবিধা

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক – সুবিধা ও অসুবিধা

আমাদের জীবনে প্রতিনিয়তই আমরা কোন না কোন অ্যাপ ব্যবহার করছি। গুগল ম্যাপ দিয়ে রাস্তা চেনা, মোবাইল ফোন দিয়ে টিভি, এসি, ফ্রিজ কন্ট্রোল করা, অনলাইনেই হোটেল বুকিং বা ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নেয়া, কি না করা যায় অ্যাপ দিয়ে। এসবের মাধ্যমেই বোঝা যাচ্ছে যে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট বর্তমানে কতটা জনপ্রিয়। তবে অ্যাপ বানানোর কাজ অনেকের কাছে দুর্বোধ মনে হলেও, নানান ফ্রেমওয়ার্কের কারণে এখন তা অনেক সহজ !

এমনই জনপ্রিয় কিছু অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের কথাই তুলে ধরা হয়েছে আমাদের এই আর্টিক্যালে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক কী?

অ্যাপের ব্যবহার আমাদের জীবনকে করেছে সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে কোথাও যাওয়ার জন্য উবার কল সহ দিনের প্রায় সকল কাজের জন্য আছে একাধিক অ্যাপ। কিন্তু তাই বলে কি নতুন অ্যাপের চাহিদা কমে গেছে? কখনোই নয়। যতই নতুন অ্যাপ আবিষ্কার হোক না কেন, অ্যাপ এর নিত্যনতুন প্রয়োগ কখনোই থামবে না। তাই যে কেউই নতুন কোন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারে।

আগে অ্যাপ তৈরী করা অনেক কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এখন আর অ্যাপ বানাতে জটিল সব প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে কোড করতে হয় না। অ্যাপ বানানোর জটিল সব সমস্যার সহজ সমাধান দিতেই তৈরী করা হয়েছে নানান রকমের ফ্রেমওয়ার্ক। এসব ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করতে কঠিন কোন ল্যাংগুয়েজ বুঝতে হয় না। কেবল ওয়েব ভিত্তিক ল্যাংগুয়েজ যেমন : জাভা, HTML, CSS এসব জানা থাকলেই ফ্রেমওয়ার্কগুলো ব্যবহার করা যায়।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কগুলো মূলত একটি প্ল্যাটফর্ম দেয় এবং এমন একটি পরিবেশ প্রদান করে যেটি অ্যাপ তৈরী করার জন্য খুবই অনুকূল। এর মধ্যে বিভিন্ন লাইব্রেরী টুলস, ডিবাগার ছাড়াও থাকে নানান রকমের সুবিধাজনক ইন্টারফেস। এ ইন্টারফেসগুলো পুনরায় ব্যবহার্য। অর্থাৎ, নতুন অ্যাপ তৈরীর সময় প্রতিবার আমরা এসব ইন্টারফেস ব্যবহার করতে পারি। এভাবেই নানান সুবিধা – অসুবিধা নিয়েই  ফ্রেমওয়ার্কগুলো অ্যাপ নিয়ে কাজ অনেক সহজ করে তুলেছে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক কেন শিখব?

আমরা সবাই চাই যাতে হাঁটতে চলতেই আমরা সব কাজ করে ফেলতে পারি। বাসায় বসেই আমরা বিল পে করতে চাই, শপিং করতে চাই, কিংবা বন্ধুকে জন্মদিনে উইশ করতে চাই। এসব কিছুই সম্ভব কেবল মাত্র একটি ডিভাইসের ব্যবহারে, তা হলো আমাদের মুঠোফোন। আর মুঠোফোনটি যদি হয় অ্যান্ড্রয়েড  ফোন তবে এসব কাজের জন্য আপনি পেয়ে যাবেন শত শত অ্যাপ। 

কোন কাজ সম্পাদনের জন্য এখন আর আমাদের নিজেদের কোথাও গিয়ে উপস্থিত হতে হয় না। যেমন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বাসার এসিটা আগে থেকে অন করে রাখা যায়, যেন বাসা আগে থেকেই ঠান্ডা হয়ে থাকা। অথবা আমরা ঘরে বসেই খাবার অর্ডার করতে পারি। যেহেতু মোবাইল ফোন খুব সহজেই ক্যারি করা যায়, এর ফাংশনালিটি যতো বৃদ্ধি পাবে জীবন ততোই সহজ হবে। 

তাই প্রায় প্রতিদিনই বাজারে আসছে নতুন নতুন সব অ্যাপ। অ্যাপ এর চাহিদা অনেক বেশী হওয়ায়, প্রায় যে কোন নতুন অ্যাপ আইডিয়া সহজেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

কিন্তু এসকল অ্যাপ বানানো কোন সহজ কাজ ছিল না। প্রতিটি অ্যাপ তৈরীর জন্যে বিশাল বিশাল সব কোড লিখতে হয়। ছোট একটি ইউজার ইন্টারফেস যা কেবলই কিছু বাটনের ব্যবহারের কাজ করে, তা বানাতেও অনেক ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হতো।

তবে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক আবিষ্কারের বদৌলতে এখন খুব অল্প পরিশ্রমেই অনেক সুন্দর ইউজার ইন্টারফেস তৈরী করা সম্ভব। এ সকল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এতো সুযোগ সুবিধা দেয়, যে এদের ছাড়া অ্যাপ বানানোর কথা এখন প্রায় ভাবাই যায়না। অনেকেই মনে করে ফ্রেমওয়ার্ক এর কাজ শেখা অনেক কঠিন কিছু। 

তাই তারা ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়াই কেবলমাত্র কোডিং ব্যবহার করেই অ্যাপ বানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, এসব ফ্রেমওয়ার্ক অনেক সহজেই শেখা যায়। শুধু তাই নয়, এগুলো শিখে অ্যাপের ইন্টারফেস হতে শুরু করে একদম কোর ফাংশনালিটি পর্যন্ত সবকিছু নিয়ে কাজ করা সম্ভব। এবং এগুলো ব্যবহার করে খুব কম সময়েই সম্পূর্ণ ব্যবহার‍্যোগ্য অ্যাপ বানিয়ে ফেলা যায়। 

তাই স্বল্প সময়ে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত্বে আনতে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের কোন বিকল্প নেই।

জনপ্রিয় কিছু অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক

জনপ্রিয় কিছু অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক

নেটিভ স্ক্রিপ্টস (Native Scripts)

Native Script এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক যা মোবাইল অ্যাপ তৈরীর জন্য ক্রস-প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এটি অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ল্যাংগুয়েজ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। যেমন জাভাস্ক্রিপ্ট, CSS, XML ইত্যাদি। যে কারণে এর সাহায্যে iOS, এন্ড্রয়েড, এমনকি মাইক্রোসফটের ইউনিভার্সাল অ্যাপ পর্যন্ত কোন ঝামেলা ছাড়াই তৈরী করা সম্ভব।

অন্যান্য অ্যাপ শুধুমাত্র বিশেষ কিছু ইন্টারফেসের সুবিধা দেয় বলে সেগুলো দিয়ে সব রকমের কাজ করা যায় না। কিন্তু Native Script প্রায় সব রকমের ইন্টারফেস ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে। তাই যেকোন ধরণের অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের জন্য এটি খুবই চমকপ্রদ একটি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক। এতে পুনরায় ব্যবহার‍্যোগ্য কিছু প্লাগইন কোড আগে থেকেই দেয়া থাকে। ফলে অ্যাপ বানানোর কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়।

নেটিভ স্ক্রিপ্ট এর সুবিধা

  • এর ব্যবহার সম্পূর্ণ ফ্রি
  • ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম  হওয়ায় ডকুমেন্টেশন সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়
  • জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে সহজেই এপিআই ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করে
  • ডকুমেন্টেশন সমৃদ্ধ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ, ফলে যে কেউ চাইলে ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে সহজেই এর ব্যবহার শিখতে পারে

নেটিভ স্ক্রিপ্ট এর অসুবিধা

  • ফ্রেমওয়ার্কটি ব্যবহার করে HTML বা DOM ভিত্তিক কোন কাজ করা যায় না 
  • এর প্লাগইনের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে মাত্র ১৬ টি, তাই ইউজার সব রকমের প্লাগইন ব্যবহারের সুযোগ পায়না 
  • সব ইউজার ইন্টারফেস ফ্রি নয়
উদাহরণ (নেটিভ স্ক্রিপ্ট)

রিঅ্যাক্ট নেটিভ (React Native )

React Native প্রায় সব রকমের এন্ড্রয়েড এবং iOS অ্যাপ বানানোর সুবিধা প্রদান করে। এটি মূলত ভিউ-কন্ট্রোলার ভিত্তিক কাজ করার জন্য সব রকমের সুযোগ সুবিধা দেয়। যেহেতু বেশীরভাগ নেটিভ অ্যাপ ভিউ-কন্ট্রোলার ভিত্তিক, তাই এর সাহায্যে সহজেই যেকোন নেটিভ অ্যাপ তৈরী করা যায়।

এমনকি কেবল জাভাস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরী দিয়েই বিভিন্ন ধরণের মোবাইল অ্যাপ বানানো সম্ভব। তাই অনেক রকম লাইব্রেরী শিখতে হয় না। React Native এর কোড অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও সহজেই শেয়ার করা যায়। তাই এর দ্বারা মাল্টিপ্ল্যাটফর্ম অ্যাপও সহজে ডেভেলপ করা যায়।

রিঅ্যাক্ট নেটিভ এর সুবিধা

  • অনেক পুনরায় ব্যবহার্য কোড থাকায় এর দ্বারা যেকোন অ্যাপ খুব দ্রুত তৈরী করা যায়
  • মাল্টিপ্ল্যাটফর্ম  ফ্রেমওয়ার্ক দ্রুতই রিফ্রেশ করা যায় 
  • খুব দ্রুত এপ্লাই করা যায় 
  • ডেভেলপার কমিউনিটি বড় হওয়ায় সহজেই সাহায্য পাওয়া যায়

রিঅ্যাক্ট নেটিভ এর অসুবিধা

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিবাগিং টুল নেই 
  • কিছু ক্ষেত্রে একই কম্পোনেন্ট iOS এবং এন্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে আলাদা বৈশিষ্ট প্রদর্শন করে
  • React Native ব্যবহার করতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম  এর সম্বন্ধেও জানতে হয়
উদাহরণ (রিঅ্যাক্ট নেটিভ)

কটলিন (Kotlin)

kotlin মূলত একটি জাভা ভিত্তিক ল্যাংগুয়েজ। প্ল্যাটফর্মটি জাভা মেশিন বা এন্ড্রয়েড অ্যাপ বানানোর জন্য খুবই কার্যকর। এটি সার্ভার ভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে। যেহেতু অ্যাপ তৈরী করার জন্য জাভা ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক, তাই এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক।

কটলিন এর সুবিধা

  • কম সময়ে কোড লিখা যায় 
  • জাভা ল্যাংগুয়েজের সাথে খুবই মানানসই 
  • অনেক IDE এবং SDK টুলস রয়েছে 
  • বাগ অনেক কম
  • অনেক সহজেই শেখা যায় 
  • নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম 

কটলিন এর অসুবিধা

  • জাভার সাথে কিছু অসামঞ্জস্যতা রয়েছে 
  • কম্পাইলেশন স্পিড অনেক কম 
  • ডকুমেন্টেশন অনেক কম, সোর্স কোড সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না
উদাহরণ (কটলিন)

ফ্লাটার (Flutter )

Flutter সম্পূর্ণ ফ্রি একটি মোবাইল অ্যাপ ফ্রেমওয়ার্ক। এটি কেবল একটি কোডবেস এর উপর ভিত্তি করে মোবাইল অ্যাপ বানানোর সুবিধা প্রদান করে। অর্থাৎ এর সাহায্যে একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে পুরো একটি অ্যাপ বানিয়ে ফেলা সম্ভব।

এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট টুল (SDK) ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। এছাড়াও এর রয়েছে পুনরায় ব্যবহার্য কোডের বিশাল ভাণ্ডার। তাই এটি প্রায় যে কোন ধরণের ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। এতে মূলত Dart প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করতে হয়। Dart দিয়ে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ফ্রন্ট এন্ড ভিত্তিক কাজগুলো করা হয়ে থাকে।

ফ্লাটার এর সুবিধা

  • অনেক রকমের ইউজার ইন্টারফেস দ্রুত ব্যবহার করা যায়
  • জাভা প্রোগ্রামারদের জন্য শেখা খুবই সহজ
  • আপডেট ও রিলোড করা সহজ, অতিরিক্ত প্লাগ-ইনস এর দরকার হয় না 
  • উইন্ডজ, লিনাক্স, এন্ড্রয়েড, iOS সহ প্রায় সব রকমের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অ্যাপস তৈরী করা যায় 
  • কমিউনিটি দিন দিন বড় হওয়ায় সহজেই শেখা যায়

ফ্লাটার এর অসুবিধা

  • অন্য ল্যাংগুয়েজের লাইব্রেরী অনেক কম 
  • এর দ্বারা তৈরী অ্যাপের ফাইল সাইজগুলো অনেক বড় হয় 
  • iOS অ্যাপ তৈরীর ক্ষেত্রে অনেক ধীরগতিতে কাজ করে
উদাহরণ (ফ্লাটার)

মানুষের ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথেই বেড়ে চলেছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। বর্তমানে জীবনের প্রায় সকল ছোটখাটো সমস্যার অনেক সহজ এবং সুন্দর সমাধান করে দিচ্ছে এই মোবাইল ফোন। এর সবকিছুই সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র অ্যাপের বদৌলতে। কিন্তু এসকল অ্যাপ তৈরী শিখতে হলে প্রথমে শিখতে হবে নতুন যুগের সম্ভাবনাময় এসব অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক। কারণ ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া অ্যাপ নিয়ে কাজ করা সত্যি দুষ্কর। 

আমাদের প্রত্যাশা এই আর্টিকেলটি আপনাদের বিভিন্ন অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহারে উৎসাহি করে তুলবে এবং পরবর্তীতে নিজেদের কাজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফ্রেমওয়ার্কটি খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

0 0 votes
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments