You are currently viewing যে দশটি ভুলে পণ্ড হয়ে যেতে পারে পার্সোনাল ব্র্যান্ড!

যে দশটি ভুলে পণ্ড হয়ে যেতে পারে পার্সোনাল ব্র্যান্ড!

আপনি যদি ইতোমধ্যে পার্সোনাল ব্র্যান্ড শুরু করার কথা ভেবে থাকেন তবে আপনাকে অভিনন্দন! কেননা বর্তমানে পার্সোনাল ব্র্যান্ড সুবিধার চেয়ে প্রয়োজনীয়তাই বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক জীবন এমনকি বন্ধুত্বের জন্যও পার্সোনাল ব্র্যান্ড এখন আবশ্যক। বলা যায় এটি বর্তমান দশকে টিকে থাকার প্রস্তুতি।

পার্সোনাল ব্র্যান্ড এতো আলোচিত বিষয় হলেও, এতে অনেক ছোট ছোট ভুলও অনেক বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। entrepreneur.com এ সম্প্রতি প্রকাশিত ‘The 10 Biggest Mistakes in Personal Branding’ আর্টিকেল অনুযায়ী পার্সোনাল ব্র্যান্ড এর উল্লেখযোগ্য ১০টি ভুল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে:

১। এটি ভাবা যে পার্সোনাল ব্র্যান্ড আপনার জীবনযাপনের সাথে সম্পর্কিত নয়

ধরুন, আপনি একজন কলেজের শিক্ষার্থী, সেক্ষেত্রেও পার্সোনাল ব্র্যান্ড আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে। ধরুন, কলেজ পাশ করে আপনি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। অবশ্যই আপনার ব্যাচের সবাই নতুন, কেউ কাউকে চেনে না। সবার যোগ্যতাও মোটামোটি একই। তাই আলাদাভাবে কেউ কারো নজরে আসারও কথা না। 

ধরুন আপনি যদি কলেজে থাকতেই মোটামুটি একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। তবে দেখা যাবে, আপনাকে সরাসরি না চিনলেও আপনার কথা আগে শুনেছে এমন অনেককেই আপনি পেয়ে যাবেন। এভাবে নতুন জায়গায় নতুনভাবে পরিচিতি পাওয়ার চাপটা আর থাকবে না। এছাড়াও এভাবে অনেক সময় সিনিয়র এমনকি শিক্ষকদেরও চেনা হয়ে যাওয়া যায়। তাই কলেজ জীবনে আপনার যেসব অর্জন, তা থেকে একটা পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় এসে নতুন করে সব শুরু করতে হবে না।

তাই “আমি কোনো কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব নই, আমার ক্ষেত্রে পার্সোনাল ব্র্যান্ড প্রযোজ্য নয়”, এমনটা ভাবা সম্পূর্ণ ভুল।

২। আপনি নন, এমন কেউ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা

নতুন কারো সাথে দেখা হলে নিজেকে ইতিবাচক প্রমাণ করতে গিয়ে একদম ভিন্ন একটা রূপ নির্বুদ্ধিতা। এর চেয়ে বরং আপনার ভাল বৈশিষ্ট্যগুলোই আরো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলুন।

এটা অনেকটা কারো সাথে নতুন বন্ধুত্ব করার মত। বন্ধুত্বের শুরুতে আমরা আমাদের ভালো দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি, এতে দোষের কিছু নেই। তবে, আপনি যা নন সে জিনিসগুলো অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরার চেষ্টায় আপনি হয়তো সাময়িকভাবে আপনার বন্ধুর নজরে আসবেন। তবে পরবর্তীতে তা আপনার বন্ধুতের জন্য বিপদজনক হতে পারে।

ঠিক একইভাবে পার্সোনাল ব্র্যান্ডেও আপনাকে আপনার স্কিল ও অর্জনগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন কোনোভাবেই এমন কিছু না বোঝায় যা আপনি নন। কারণ, কোনো চাকরিদাতাই এমন কাউকে নিয়োগ দিতে চায় না যার ওপর ভরসা করা যায় না।

৩। খারাপ কিছু ঘটার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করা

অনলাইন এমন একটা জায়গা যেখানে যে কেউ খুব সহজেই লাইমলাইটে এসে পড়তে পারে। হোক তা ইতিবাচকভাবে বা নেতিবাচকভাবে। আর একবার নেতিবাচক কারণে সবার নজরে চলে আসলে তা সংশোধন করে নিজের ইমেজ ঠিক করা অনেক কঠিন।

অনেকেই কেবল কোন সমস্যায় পরার পরই বুঝতে পারে যে পার্সোনাল ব্র্যান্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগে থেকে সক্রিয়ভাবে আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরি করে থাকলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা অনেক সময় এড়ানো সম্ভব।

৪। প্ল্যানিং ছাড়াই পার্সোনাল ব্র্যান্ড এর কাজ শুরু করে দেয়া

একটি ব্লগ পোস্ট লেখার আগে বা প্রথম টুইটটি পাঠানোর আগে আপনাকে প্রথমে নিজেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে। যেমন, এই লেখা কি আপনার ব্যান্ডের সাথে যায়? এই লেখা কি আপনাকে মানুষের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে? কারণ আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আপনার ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপন করে সেটাই পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং-এর উদ্দেশ্যে। পার্সোনাল ব্র্যান্ড সুন্দর করে তৈরি করার পর আপনার একটা ভিন্নধর্মী পোস্ট পুরো ব্র‍্যান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৫। শুধু নিজের কথা চিন্তা করা

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং তৈরি করার প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ মানুষ একটা ভুল করে থাকে। তা হল, আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড-টি শুধুমাত্র আপনাকে ঘিরেই তৈরি হবে এমনটা ভাবা। 

আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড শুধুমাত্র আপনার কাজের অভিজ্ঞতা বা আপনার ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে হবে না। বরং এটি আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সের দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত। বিশেষত আপনি তাদের জন্য কী কী করতে পারেন এমনটা যেন আপনার ব্র‍্যান্ডে ফোকাস করা হয়। সর্বোপরি নিজেকে টার্গেটেড অডিয়েন্সের জায়গায় বসিয়ে ভাবুন নিজের থেকে আপনি কী আশা করেন।

অন্যরা কী চাইছে তা না ভেবে শুধু নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে চাইলে অনেক সময় ও শ্রম দেয়ার পরেও দেখা যাবে, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ঠিকমতো হচ্ছে না।

৬। দ্রুত ফলাফল আশা করা

একটি কার্যকর পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ কেবল ওয়েবসাইট এবং কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আপডেট করা নয়। একটি কার্যকর পার্সোনাল ব্র্যান্ড আপনাকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তুলবে। আপনি যাদেরকে প্রভাবিত করতে চান বা যাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চান তাদের নজরে নিয়ে আসবে। সুতরাং, একটি কার্যকর পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরী অনেক সময়সাপেক্ষ ও কঠিন কাজ।

অনেকে একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর সফলভাবে পার্সোনাল ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।

৭। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা - পার্সোনাল ব্র্যান্ড
Image Credit: Free Stock (Unsplash.com)

নতুন পার্সোনাল ব্র্যান্ড অনেক সময় মানুষের নজরে পড়ে না। তাই, অনলাইনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে এক্সপোজার পেলে ব্যপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই কারো কাছে এক্সপোজার চাইতে নিজেকে ছোট মনে করার কিছু নেই। জীবনে বড় হতে হলে বিভিন্ন মানুষের সাহায্য দরকার হবে, এটাই স্বাভাবিক। 

৮। শুধু অন্যদের লেখনী শেয়ার করা

অন্যের লেখনী নিজের নামে চালিয়ে দেয়া যে অন্যায় তা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু অন্যের লেখা শেয়ার দেয়ার বেলায়ও সতর্ক থাকতে হবে।

মাঝে মাঝে অন্যদের পোস্ট শেয়ার করা স্বাভাবিক কিন্তু তা যেন নিজের পোস্টের চেয়ে বেশি না হয়। এতে মানুষ ধরেই নিবে যে আপনার নিজের কোনো মতামত নেই বা আপনার মতামত তুলে ধরার মতো স্কিল আপনার মাঝে নেই। অন্যের লেখা বার বার শেয়ারের মাধ্যমে আপনি অজান্তেই আরেকজনের ব্র‍্যান্ডিং করে দিচ্ছেন।

৯। পোস্ট করতে না চাওয়া

অনেকের একটা ভুল ধারণা যে, যত কম পোস্ট, যত বেশি ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে আর ঘন ঘন পোস্ট করলে তা আপনার অডিয়েন্সের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু, একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর পোস্ট না করলে মানুষ আপনাকে মনে রাখবে না। চেষ্টা করবেন বিভিন্ন সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে। তবে তা যেন বেশি সমালোচিত না হয়।

১০। ফলোয়ারের কোয়ালিটির থেকে কোয়ান্টিটিতে বেশি গুরুত্ব দেয়া

ধরুন আপনার ১০,০০০ ফলোয়ার আছে কিন্তু তারা আপনার পোস্ট পড়েও দেখে না। এতে করে আপনার অনেক ফলোয়ার থাকলেও পার্সোনাল ব্র্যান্ড বিস্তৃত হচ্ছে না। তাই এমন ভাবে ফলোয়ার অর্জন করতে হবে যাতে তারা আসলেই আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড এর ব্যপারে আগ্রহী হয়।

ধরুন, আপনি একজন ফোটোগ্রাফার, এর পাশাপাশি টুকটাক কবিতাও পছন্দ করেন। এখন আপনি ফেসবুকে একটা কবিতার গ্রুপে বেশ পোস্ট আর কমেন্ট করেন। এখন আপনার ফলোয়ারও বেশিরভাগই ঐ গ্রুপ থেকে আসা। এদিকে দিন দিন ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়লেও, আপনার পোস্টে রিচ কমে যাচ্ছে। কারণ কবিপ্রেমী মানুষগুলোর স্থিরচিত্রে তেমন আগ্রহ নেই। এমতাবস্থায় হাজারখানেক ফলোয়ার থাকলেও আপনার কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। একারণে, আপনার কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন বিভিন্ন গ্রুপে সক্রিয় থাকতে পারেন। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে খাঁটি টার্গেটেড অডিয়েন্সের সাথে যোগাযোগে থাকা যায়। ফলোয়ার গেইন করার সময় কোন জায়গা থেকে বেশি ফলোয়ার আসবে তা চিন্তা না করাই ভালো। বরং কোন জায়গা থেকে আসা ফলোয়ার আসলেই পার্সোনাল ব্র্যান্ডের জন্য উত্তম তা চিন্তা করতে হবে।

Sadia Tasmia
5 1 vote
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments