You are currently viewing ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পরিচিতি

ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পরিচিতি

প্রযুক্তির জগতে এখন প্রতিযোগিতার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে নিত্যদিন। আর তার সাথে তাল মেলাতে অ্যাপ ডেভেলপাররা ক্রমশই ঝুঁকছে এমন সব অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট টুল এবং ফ্রেমওয়ার্কের দিকে যা তাদেরকে কাজকে সহজ এবং ডেভেলপমেন্ট টাইমকে সংক্ষিপ্ত করবে। সেক্ষেত্রে “ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট” ডেভেলপার এবং বিজনেস– দুই পক্ষের জন্যই বেশ সুবিধাজনক হয়ে ধরা দিচ্ছে দিনদিন।

ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কী?

ক্রস-প্ল্যাটফর্ম মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বলতে বোঝায় এমন সব মোবাইল অ্যাপ যেগুলো একই সাথে একাধিক মোবাইল প্ল্যাটফর্মে চালানো যায়। এইসব অ্যাপগুলো একাধিক অপারেটিং সিস্টেমে কম্প্যাটিবল, বিশেষ করে আইওএস (ios) এবং অ্যান্ড্রয়েড। 

আর এ ধরনের অ্যাপগুলোর ডেভেলপমেন্টকেই বলে ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট।

ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কেন বেছে নেব?

একই সাথে একাধিক প্ল্যাটফর্মে সফটওয়্যার লঞ্চ করার সুবিধা

আপনি যদি ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের সাহায্যে সফটওয়্যার ডেভেলপ করেন তাহলে আপনি আপনার সফটওয়্যারকে একই সাথে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লঞ্চ করতে পারবেন। কারণ এক্ষেত্রে সব প্ল্যাটফর্মের জন্য একইসাথে একবারই সোর্স কোড লিখতে হয়। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য এক্ষেত্রে আলাদা আলাদা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট টিম আর হায়ার করার প্রয়োজন হয় না।

দ্রুত ডেভেলপমেন্ট

বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা আলাদা স্ক্রিপ্ট না লিখে একটি স্ক্রিপ্টের ডেপ্লয়মেন্টের মাধ্যমেই অ্যাপ ডেভেলপ করা হয়। তাই সময় তুলনামূলক কম লাগে এবং পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য বেশি সময় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। এই ব্যাপারটি ডেভেলপমেন্ট টিম থেকে মার্কেটিং টিম পর্যন্ত সবাইকেই সাহায্য করে। 

বৃহত্তর ইউজার বেজ

ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে যেহেতু বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং অপারেটিং সিস্টেমের সাথে আপনার ডেভেলপ করা অ্যাপটি কম্প্যাটিবল হয়, তাই অ্যাপটির ইউজার বেজ স্বাভাবিক ভাবেই তুলনামূলক বড় ও বিস্তৃত হয়। কম এফোর্ট এবং সময়ে সবচেয়ে বেশি অডিয়েন্স রিচ করার সবচেয়ে ভালো ডেভেলপমেন্ট টুল তাই ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট।

সহজ এবং দ্রুত আপডেট

অন্যান্য অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদাভাবে আপডেট তৈরি অনেক শ্রমসাধ্য। কিন্তু এই ক্ষেত্রে একই সাথে সব প্ল্যাটফর্মের জন্য আপডেট করা যায়।

কম খরচ

প্রতি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা ডেভেলপমেন্ট টিম যেহেতু ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে লাগছে না, তাই এক্ষেত্রে অনেক পরিমাণ খরচ বেঁচে যায়।  

তবে তাই বলে এই নয় যে নেটিভ অ্যাপগুলোরও নিজস্ব সুবিধা নেই। নেটিভ অ্যাপগুলো স্পেসিফিক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি হওয়ার কারণে এগুলোর পারফরমেন্স দ্রুততর হয় এবং নির্ভরযোগ্যতাও বেশি হয়।

সেদিক দিয়ে ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপগুলো তুলনামূলক পিছিয়েই আছে বলতে হয়। তাই কোন সুবিধাগুলো একজন ডেভেলপার বা বিজনেসের দরকার, তার উপরেই নির্ভর করবে কে কোন ডেভেলপমেন্ট টুলকে বেছে নিবে।

জনপ্রিয় কিছু ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্ট টুল

জনপ্রিয় কিছু ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্ট টুল

রিঅ্যাক্ট নেটিভ (React Native)

রিঅ্যাক্ট নেটিভের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

২০১৫ সালের মার্চে ফেসবুকের হাত ধরে রিঅ্যাক্ট নেটিভ তার যাত্রা শুরু করে এবং দ্রুতই জাভাস্ক্রিপ্ট জানা ডেভেলপারদের মন কেড়ে নেয়। স্ট্যাটিস্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪২% ডেভেলপাররা এখন রিঅ্যাক্ট নেটিভকে বেছে নিচ্ছে কারণ এখানে সি++, জাভা, সুইফট, অবজেক্টিভ এবং পাইথনের মত বিভিন্ন মেজর ল্যাংগুয়েজে মডিউল লেখার সুযোগ রয়েছে। উপরন্তু রিঅ্যাক্ট নেটিভের দ্বারা অ্যাপ ডিজাইনও করা যায় তুলনামূলক দ্রুত। আবার ওপেন সোর্স ফ্রেমওয়ার্ক হওয়ার দরুন ডেভেলপাররাও এতে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে। 

যদি ইতোমধ্যে আপনার রিঅ্যাক্ট নেটিভ নিয়ে ধারণা না থাকে অথবা যদি রিঅ্যাক্ট ন্যাটিভের সাহায্যে মোবাইল এপ্লিকেশন (Android, iOS) ডেভেলপ করতে চান, তাহলে React Native for Multiplatform App Development কোর্সটিতে এনরোল করতে পারেন!

কোর্সের সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হলো, বাংলায় খুব সহজবোধ্যভাবে একদম বেসিক কনসেপ্ট থেকে শুরু করে এডভান্সড কনসেপ্টগুলো বুঝতে বুঝতেই একটি অ্যাাপ বানানো হয়ে যাবে। এরপর সব বুঝে নিয়ে সবার শেষে আরও একটি অ্যাপ ডেভেলপ  করে ফেলবো আত্মবিশ্বাস অর্জনের করতে পারবেন।

রিঅ্যাক্ট নেটিভের ব্যবহারঃ

রিঅ্যাক্ট ন্যাটিভের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহার হিসেবে ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম অ্যাপকে উল্লেখ করা যেতে পারে।  

ফ্লাটার (Flutter)

ফ্লাটারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

ফ্লাটার গুগলের তৈরি করা অ্যাডভান্স লেভেলের একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট (SDK) যা আধুনিক অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টের জন্য বেশ মানানসই। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিটটির রয়েছে সমৃদ্ধ ইউআই এলিমেন্ট এবং উইজেটের সম্ভার। এর হাই পারফরমেন্স রেন্ডারিং ইঞ্জিন ডেভেলপারকে অ্যাপ তৈরির সময় অনেক কাস্টোমাইজেশন এবং স্মুথ অ্যানিমেশন যুক্ত করার সুযোগ দেয়।

এছাড়াও ফ্লাটার ‘হট রিলোড’ ফিচার বলে একটি ফিচার রয়েছে যা ডেভেলপারদের সেভ করা ছাড়াই কোডিং-এর চেঞ্জ লাইভ দেখার সুযোগ করে দেয়। গুগলের প্রোডাক্ট হবার কারণে এর ফিউচার গ্রোথ এবং অ্যাক্টিভ কমিউনিটি সাপোর্ট নিয়েও সবসময়ই আশাবাদী থাকা যায়।

ফ্লাটারের ব্যবহারঃ

গুগল অ্যাডস এবং আলিবাবার মত বড় বড় ক্ষেত্রে ফ্লাটারকে ব্যবহার করা হয়েছে।

জামারিন (Xamarin)

জামারিনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

মাইক্রোসফটের মালিকানায় থাকা ওপেন-সোর্স ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম জামারিন অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি সি# কোডবেজ নিয়ে কাজ করে এবং .net ডেভেলপারদের জন্য বেশ উপযুক্ত। জামারিন ব্যবহার করে হাই-পারপমরমেন্স অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করাটা বেশ দ্রুত এবং স্বচ্ছন্দ্যময় হয়। এর টেস্টক্লাউড ফিচার অটোমেটিক্যালি তৈরি করা অ্যাপকে টেস্ট করে এবং ১০০% কোড রিইউজেবিলিটি নিশ্চিত করে। 

জামারিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডেভেলপাররা স্ট্যান্ডার্ড নেটিভ এপিআই (API) ব্যবহার করতে পারে, যা ইউজারদেরকে অথেন্টিক নেটিভ এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে।

জামারিনের ব্যবহারঃ

অ্যালাস্কা এয়ারলাইন্স, অরো, এপিএক্স ইত্যাদি অনেক অ্যাপই জামারিন দ্বারা তৈরি।

করডোভা (Cordova)

করডোভার সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

রিঅ্যাক্ট নেটিভ বা ফ্লাটারের মত আপাচে করডোভাও একটি ওপেন-সোর্স মোবাইল ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক। এটি বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য ডেভেলপারদের অ্যাপ ডেভেলপ করার সুযোগ করে দেয়। নিটোবির তৈরি এই ফ্রেমওয়ার্কের বর্তমান মালিকানা আছে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অ্যাডোবির হাতে এবং ১৫৭টি কোম্পানি তাদের টেক স্ট্যাকে এটি ব্যবহার করে। 

করডোভা সফটওয়্যার প্রোগ্রামারদের সিএসএস৩ (CSS3), এইচটিএমএল৫ (HTML5) বা জাভাস্ক্রিপ্টের মত ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে মোবাইল ডিভাইসের জন্য সমৃদ্ধ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সুযোগ করে দেয়। ডিভাইসের বিভিন্ন নেটিভ রিসোর্স যেমন ক্যামেরা, এক্সেলেরোমিটার, কম্পাস, কন্ট্যাক্টস, জিওলোকেশন ইত্যাদিকে অ্যাপের সুবিধার্থে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে করডোভার জুড়ি মেলা ভার।

করডোভার ব্যবহারঃ

টেলিপোর্ট বা ওয়ালমার্ট অ্যাপে করডোভার ব্যবহার হয়েছে।

আয়নিক (Ionic)

আয়নিকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

আয়নিক একটি সম্পূর্ণ ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট (SDK)। ২০১৩ সালে যখন এটি প্রথম লঞ্চ হয়েছিল তখন এটি আপাচে করডোভার উপরই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এর সর্বশেষ রিলিজে একে একটি সেট অব ওয়েব কম্পোনেন্ট হিসেবে রিবিল্ট করা হয়েছে। ফলে যেখানে যেকোনো ইউজার ইন্টারফেস ফ্রেমওয়ার্কই ব্যবহার করা যায়।

এসব কারণে এর ইউআই কম্পোনেন্ট, জেসচার বা টুলের সম্ভার বেশ সমৃদ্ধ। তাই কম সময়েই একে ব্যবহার করে অনেক ইন্টারেক্টিভ এবং এংগেজিং অ্যাপ তৈরি করা যায়। এসব সুবিধার কারণে আয়নিকের মার্কেট শেয়ার এখন বেড়েই চলছে।

আয়নিকের ব্যবহারঃ

স্যানভেলো, ম্যাকডোনাল্ডস– এই বহুল ব্যবহৃত অ্যাপগুলো আয়নিকে তৈরি।

করোনা (Corona)

করোনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

টু-ডি (2D) গেমিং অ্যাপ তৈরির জন্য করোনা একটি আদর্শ ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক। এর ক্ষেত্রে একই গেম বিভিন্ন ডিভাইসে কম্প্যাটিবল হিসেবে তৈরি করার জন্য একটি সিঙ্গেল কোডবেজই যথেষ্ট। ফ্রি-টু-ইউজ এবং ইজি-টু-ইন্সটল হবার পাশাপাশি এর বিল্ট-ইন করোনা সিমুলেটর এতে লাইভ চেঞ্জ দেখতে সাহায্য করে।

তাই এখানে টুলসেট মেইন্টেইন করারও প্রয়োজন হয় না। প্রো ডেভেলপারদের জন্য যেমন এই ফ্রেমওয়ার্ক স্বচ্ছন্দ্যময়, তেমন নোভিসদের জন্যও এর সহজবোধ্যতা সুবিধাজনক। 

করোনার ব্যবহারঃ

ডিজাইনার সিটি, জিপ জ্যাপ, দ্যা লস্ট সিটি– এসব গেম করোনা ফ্রেমওয়ার্কে তৈরি।

অ্যাপসেলারেটর (Appcelator)

অ্যাপসেলারেটরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

অ্যাপসেলারেটর এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এর অনন্য কিছু সুবিধার কারণে। যেমন এতে নেটিভ অ্যাপ তৈরির ক্ষেত্রেও প্রায় ৯০% কোডই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম জুড়ে রিইউজ করা যায়।

এর হাইপারলুপ নামক একটি ফিচার ডেভেলপারদের আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েডের বিভিন্ন এপিআই জাভাস্ক্রিপ্ট দ্বারা সরাসরি ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। এই ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে ৩৫ হাজারেরও বেশি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

অ্যাপসেলারেটরের ব্যবহারঃ

অ্যাপসেলারেটর ব্যবহার করে তৈরি কিছু অ্যাপের উদাহরণ হচ্ছে দা বডি শপ, আলাস্কা, কমার্শিয়া ব্যাংক ইত্যাদি।

পরিশেষে

বর্তমানের প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে যেহেতু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ক্রস-প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের দিকে ঝুঁকছে। তাই অ্যাপ ডেভেলপারদের ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্টের ফ্রেমওয়ার্ক বা টুলগুলোয় ওয়াকিবহাল হওয়াটা সময়ের দাবি। তাই নিজেকে অ্যাপ ডেভেলপিংয়ের জগতে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে যে কারোরই উচিত এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা এবং শেখার চেষ্টা করা।

তবে সবার আগে প্রয়োজন শূন্য থেকে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করতে পারার দক্ষতাটা অর্জন করা। তিনটি রিয়েল-লাইফ এন্ড্রয়েড অ্যাপ প্রজেক্ট করার একেবারে Scratch থেকে গুগল স্টোরে পাবলিশ করার উপযুক্ত অ্যাপ ডেভেলপ করা শিখতে Android App Development with Java কোর্সে এনরোল করতে পারেন।

0 0 votes
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments