পাইথনের খুঁটিনাটি ও ক্যারিয়ার গড়ার প্রয়াস

পাইথনের খুঁটিনাটি ও ক্যারিয়ার গড়ার প্রয়াস

কম্পিউটার সায়েন্সের জগতে প্রবেশ করেছেন আর পাইথন (Python) এর নাম শোনেননি এমন কাউকে হয়তো আজকের দিনে খুঁজে পাওয়া যাবে না । ল্যাংগুয়েজ হিসেবে সব্যসাচী এই পাইথনের ব্যবহার আজ সর্বত্র। ডাটা বিন্যাসের টুল থেকে শুরু করে, জটিল অ্যাাপ্লিকেশন তৈরি সব ক্ষেত্রেই পাইথনের ব্যবহার শীর্ষে। শুধুমাত্র এই পাইথন শিখেই একসাথে বিভিন্ন ধরণের কাজ করার জন্য দক্ষ হয়ে ওঠা সম্ভব।

আর্টিক্যালটি থেকে কী কী জানতে পারবেন?

  • পাইথনের ইতিহাস ও জনপ্রিয়তার কারণ
  • পাইথন কেন শিখবেন
  • পাইথনের লাইব্রেরি ও ফ্রেমওয়ার্ক
  • পাইথনের বহুবিধ সুবিধা
  • পাইথনের কিছু অসুবিধা
  • পাইথন ভবিষ্যত ও
  • পাইথন শিখে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা
আর্টিক্যালটি শেষ পর্যন্ত পড়তে পড়তে হয়তো আপনি পাইথন শিখতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন আর ইতোমধ্যে শিখে থাকলে পাইথনের আরো গভীরে গিয়ে বিভিন্ন টুলকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগাতে উদ্বুদ্ধ হবেন ও পাইথনকে কেন্দ্র করে ক্যারিয়ার গড়ার একটি গাইনলাইন পায়ে যাবেন।

পাইথন (Python) কী ?

পাইথন মূলত বিভিন্ন কাজের উপযোগী, অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড এবং উচ্চতর লেভেলের একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। সাধারণত একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যত বেশি মানুষের ভাষার কাছাকাছি এবং জটিল কাজের প্রোগ্রাম লিখার উপযোগী হয় তাকে তত উচ্চতর লেভেলের ল্যাংগুয়েজ হিসেবে ধরা হয়।

যেমন- আনসি (ANSI) কে বলা হয় নিচু পর্যায়ের ভাষা। কেননা এখানে সামান্য কিছু ইন্সট্রাকশন দিয়ে সব কাজ করতে হয়। এটি মানুষের ভাষা নয় বরং মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের কাছাকাছি একটি ল্যাংগুয়েজ এবং এর ব্যবহার খুবই সীমিত। অন্যদিকে পাইথনকে স্মার্ট ল্যাংগুয়েজ হিসেবে বিবেচনা করার কারণ এর দ্বারা যে কোন কাজকে প্রোগ্রাম করা যায়।

পাইথন নামটি কিভাবে এলো?

পাইথনের নামকরণের গল্পটা বেশ মজার। ল্যাঙ্গুয়েজটির তৈরিকর্তা Guido van Rossum যখন এটি তৈরি করছিলেন, একই সাথে তিনি Monty Python’s Flying Circus নামের একটি কমেডি সিরিজের পাবলিশ হওয়া স্ক্রিপ্টও পড়ছিলেন। হঠাৎ তার মনে হলো তার বানানো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটির জন্য এমন একটি নামের প্রয়োজন যা আকারে ছোট, ইউনিক এবং কিছুটা রহস্যময়। তখন তিনি ঠিক করলেন পাইথন নামটিই হবে সবচেয়ে উত্তম।

পাইথনের জনপ্রিয়তার কারণ

অন্যান্য ল্যাংগুয়েজগুলোর তুলনায় পাইথনের বেশি জনপ্রিয়তার কারণ এর সহজবোধ্য সিনট্যাক্স এবং বহুমুখী ব্যবহার। পাইথনের প্রধান প্রধান কি-ওয়ার্ড এবং সিনট্যাক্সগুলো এমনভাবে সাজানো যা তাকে সাধারণ ভাষার অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। দ্রুত শেখা এবং ব্যবহারের সুবিধার কারণে অন্যান্য ল্যাংগুয়েজের তুলনায় দ্রুত পাইথনে কোড করে বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পাদন করা যায়।

পাইথন কেন শিখব?

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির জগতে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পাইথন শিখার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম কেননা পাইথন কেবলমাত্র একটি ক্ষেত্রেই কাজ করে না বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয় এবং দিন দিন এর আধিপত্য বেড়েই চলেছে। নিম্নে পাইথন শেখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হল –

বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং এর মাধ্যম হিসেবে পাইথন

কোন ল্যাংগুয়েজ দিয়ে একই সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং করা যায় এই চিন্তা মাথায় আসলে পাইথনের নাম সবার উপরে থাকে। অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (Object Oriented Programming- OOP), ফাংশনাল প্রোগ্রামিং (Functional programming), এম্পিরিকাল প্রোগ্রামিং (Empirical Programming) ,স্ট্রাকচারড প্রোগ্রামিং (Structured Programming) ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে পাইথনকে কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় নানা ধরনের অ্যাাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়।

যেমন- এন্ড্রয়েড অ্যাাপ্লিকেশন, গেইম, ওয়েব অ্যাাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার। এর বাইরে পাইথন ব্যবহারের সুবিধা হল পাইথনের বিভিন্ন বিল্ট-ইন ফাংশন রয়েছে যা দিয়ে সহজেই ভ্যারিয়েবল টাইপ এবং তাদের ব্যবহার পরীক্ষা করা যায়। এছাড়া এর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তনশীল মেমরি ব্যবস্থাপনার সুবিধা রয়েছে যা পাইথন দিয়ে কোডিং করাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যের করে তুলেছে।

ওয়েব টেস্টিং এর জন্য পাইথন

বিভিন্ন ওয়েবসাইট অ্যাাপ্লিকেশন এবং ওয়েব ইন্টারফেসের পারফর্ম্যান্স পরীক্ষা করার জন্য পাইথন সবচেয়ে ভাল টুল। এর রয়েছে বিল্ট-ইন ইউনিট টেস্টিং ফ্রেমওয়ার্ক যার নাম ‘পাই ইউনিট’ (PyUnit), এই ফ্রেমওয়ার্কটির মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায় যে কোডের যেভাবে কাজ করার কথা ঠিক সেভাবে কাজ করছে কিনা।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেস্টিং করা ছাড়াও এটি টেস্টিং এর কাজ বন্ধ করা, টেস্ট ডাটা কালেক্ট করা, রিপোর্ট করা ইত্যাদি কাজ করে থাকে। স্বয়ংক্রিয় এবং বারংবার করতে হয় এমন কাজের জন্য পাইথনই সর্বোত্তম।

ওয়েব স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য পাইথন

পাইথনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুন্দর ব্যবহার হল ডাটা নিষ্কাশন বা ওয়েব স্ক্র্যাপিং (web scraping)। এটি এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে বিভিন্ন সোর্স থেকে ডাটা কালেক্ট করে সেগুলোকে অর্গানাইজ করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। পাইথনের বিভিন্ন ওয়েব স্ক্র্যাপিং টুলের মধ্যে Selenium, urllib2 এবং ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে Scrappy ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডাটা সাইন্সের গবেষণায় পাইথন

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ রিসার্চার এবং ডাটা সায়েন্টিস্ট তাদের রিসার্চ এবং এক্সপেরিমেন্টের জন্য পাইথনের বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে থাকেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টলিজেন্স বিষয়ক বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টের জন্য পাইথনের প্রচুর পরিমাণে বিল্ট-ইন প্যাকেজ এবং লাইব্রেরি বিদ্যমান যার কারণে অনেক কিছুই নতুন করে তৈরি করতে হয় না।

ওয়েব অ্যাাপ্লিকেশন এবং ইন্টারনেট ডেভেলপমেন্টে পাইথন

ইন্টারনেটে প্রতি নিয়ত  আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্রাউজ করি। বিভিন্ন ওয়েব অ্যাাপ্লিকেশন তৈরিতে পাইথনের ব্যবহার শীর্ষে। পাইথন দিয়ে একদিকে যেমন সার্ভার সাইড ওয়েব অ্যাাপ্লিকেশন তৈরি করা যায় তেমনি ইউজার সাইডের কাজগুলো পাইথনের বিভিন্ন লাইব্রেরি ও ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে দক্ষভাবে হ্যান্ডল করা যায়। এক কথায় ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য পাইথন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম।

ডাটাবেজ রক্ষণাবেক্ষণে পাইথন

পাইথনের মাধ্যমে সহজেই অনেক ধরণের ডাটাবেজে এক্সেস করা যায়। ইউজাররা সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন কিভাবে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে এবং সময়ে সময়ে সেখানে কী কী এডিট করা হচ্ছে।

সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পাইথন

সাইবার জগতের নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী কিছু লাইব্রেরি যেমন- Nmap, Yara, Requests ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি যে কোন সিকিউরিটি থ্রেটের বিপরীতে অন্য অনেক ল্যাংগুয়েজের তুলনায় খুব দ্রুত রেস্পন্স করতে পারে।

পাইথনের কিছু লাইব্রেরি

পাইথন ওপেনসিভি (OpenCV)

বিভিন্ন ধরণের ইমেজ প্রসেসিং করার জন্য এই লাইব্রেরিটি ব্যবহৃত হয়। ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের অনেক কাজ এই লাইব্রেরিটি দিয়ে করা সম্ভব।

পাইথন পাইটর্চ (PyTorch)

এটি একটি মেশিন লার্নিং লাইব্রেরি যার সাহায্যে বিভিন্ন ডায়নামিক কম্পিউটেশনাল গ্রাফ এবং গ্র্যাডিয়েন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণয় করা যায়।

পাইথন টেন্সরফ্লো (TensorFlow)

মেশিন লার্নিং বিষয়ক কাজের জন্য এই লাইব্রেরিটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই লাইব্রেরি ব্যবহার করে তৈরি করা অ্যাাপ্লিকেশনের সংখ্যা অসংখ্য।

পাইথন নাম্পি (Numpy) লাইব্রেরি

এই লাইব্রেরিটি মূলত বিভিন্ন গাণিতিক কাজের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া টেন্সরফ্লো এবং অন্য বিভিন্ন লাইব্রেরি বিভিন্ন ধরনের অপারেশন চালানোর জন্য এটি ব্যবহার করে থাকে।

পাইথনের কিছু ফ্রেমওয়ার্ক

পাইথন জ্যাংগো (Django) ফ্রেমওয়ার্ক

ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য এই ফ্রেমওয়ার্কটি অনেক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফ্রন্টএন্ড এবং ব্যাকএন্ডের বিভিন্ন কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই ফ্রেমওয়ার্কটি দ্বারা করা যায়। এটি ব্যবগারকারীকে একটি উপযুক্ত স্ট্রাকচার দেয় যা ব্যবহার করে অনেক দ্রুত এবং সহজে ওয়েব এপ্লিকেশন তৈরি করা সম্ভব। তাছাড়া পারফরম্যান্স, সিকিউরিটি, স্কেলেবিলিটি এর দিক দিয়ে জ্যাংগো অনেক এগিয়ে।

বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট যেমন: Mozilla Firefox, Bitbucket, Instagram এমনকি NASA এর ওয়েবসাইটটিও জ্যাংগো ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে তৈরি।

পাইথন ফ্লাস্ক (Flask) ফ্রেমওয়ার্ক

এই ফ্রেমওয়ার্কটি দিয়ে যে কোন ভালো ওয়েব অ্যাাপ্লিকেশনের ফাউন্ডেশন তৈরি করা যায় যেখানে যে কোন ধরণের এক্সটেনশন প্রয়োজনমত ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

পাইথন হাগ (Hug) ফ্রেমওয়ার্ক

এই ফ্রেমওয়ার্কটি দিয়ে ডেভেলপাররা যে কোন এপিআই (API) একবার ব্যবহার করে পরবর্তীতে বারংবার কাজে লাগাতে পারেন। যথেষ্ট সংখ্যক অল্প কোড দিয়ে কাজ করার ফ্লেক্সিবিলিটি এখানে পাওয়া যায়।

পাইথনের সুবিধা

  • পাইথনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স একটি ল্যাংগুয়েজ।
  • যে কোন বড় প্রোগ্রাম লিখার জন্য পাইথনে অল্প কোডিং এর প্রয়োজন।
  • সব ধরণের সেক্টরের ছোট-বড় সব ধরণের প্রতিষ্ঠানে পাইথনের ব্যবহার রয়েছে।
  • পাইথন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ট্রেন্ডিং ল্যাংগুয়েজ যাকে বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরিতে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
  • অনেক বেশি সংখ্যক বিল্ট-ইন লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ এখানে রয়েছে।
  • ইন্টারপ্রেটেড ল্যাংগুয়েজ হওয়ায় ডিবাগিং করা সহজ।
  • ল্যাংগুয়েজ হিসেবে পাইথনের পোর্টেবিলিটি অনেক বেশি অর্থাৎ একই কোড বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যায়।
  • পাইথনে টাইপ কাস্টিং ডায়নামিক্যালি হয় বিধায় প্রোগ্রামারকে আলাদা করে ভ্যারিয়েবলের টাইপ বলে দিতে হয় না।
  • পাইথনের ডাটা স্ট্রাকচার অনেক বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি।
  • থার্ড পার্টি মডিউলের সুবিধা থাকায় পাইথনের মাধ্যমে অন্য অনেক ল্যাংগুয়েজ ও প্ল্যাটফর্মে ইন্টার‍্যাক্ট করা যায়। 
  • ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি (IOT) প্ল্যাটফর্মে পাইথনকে খুবই চমৎকারভাবে কাজে লাগানো যায়।
  • পাইথন একই সাথে প্রসিডিউরাল এবং অব্জেক্ট ওরিয়েন্টেড দুই ক্ষেত্রেই কাজ করে।
  • পাইথনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটিকে সব প্ল্যাটফর্মের মানুষই নিজের মত করে ব্যবহার করতে পারে।

পাইথনের অসুবিধা

  • পাইথনের মেমরি ব্যবহারের পরিমাণ অন্য অনেক ল্যাংগুয়েজের তুলনায় অনেক বেশি। যে কোন প্রজেক্ট তৈরির সময় এই মেমোরির বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয়। এমনভাবে কোডিং করতে হয় যাতে মেমোরি অনেক কম নষ্ট হয়।
  • পাইথনে ডাটা টাইপ ডায়নামিক্যালি সিলেক্ট করা হয় কিন্তু ডাটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিংয়ের এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে স্ট্যাটিক ডাটা টাইপ বেশি পছন্দের।
  • অনেক বেশি ডাটা নিয়ে কাজ করার সময় টাইপ এরর (error) দেখা যায়। স্ট্যাটিক ডাটা টাইপে বাগ এড়ানো অনেক সহজ যেটা পাইথনের ডায়নামিক ডাটা টাইপে সম্ভব নয়।
  • পাইথন দিয়ে মাল্টিথ্রেডিং (Multithreading) সেভাবে করা যায় না এবং ফাংশনাল প্রোগ্রামিংয়ের জন্য পাইথন ব্যবহার করা কিছুটা কঠিন।

পাইথনের ভবিষ্যৎ

পাইথন বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই মাল্টি ফাংশনাল ল্যাংগুয়েজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি খুব দ্রুত তার কাজের পরিধি বাড়াচ্ছে। নব্য যে সকল টেকনোলজির ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় পাইথনকে কেন্দ্র করে তার টুলগুলো সাজানো। এই একটি মাত্র ল্যাংগুয়েজ ভালভাবে শিখতে পারলেই নিজের ক্যারিয়ার অনেকখানি সাজানো হয়ে যায় কারণ এর বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা অনেক বেশি।

পাইথন শিখে ক্যারিয়ার গড়ুন

পাইথনের খুঁটিনাটি তো অনেক হলো। এবার আসা যাক পাইথন শিখে ক্যারিয়্যার গড়ার সম্ভাবনা কেমন সে বিষয়ে।

চাকরির বাজারে পাইথনের চাহিদা

বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাইথন ব্যবহারের সুবিধার কারণে চাকরির বাজারে পাইথনের চাহিদা খুবই প্রসারিত। পাইথন ডেভেলপার হয়ে যেমন ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্ভব, তেমনি আবার পাইথনের ডাটা অ্যাানালিস্ট হয়ে ডাটার রাজ্যে বিচরণ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার হওয়া বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যে কোন সেক্টরে যাওয়াটা খুবই সহজ হয়ে যায় পাইথনে পারদর্শী হলে।

ওয়েবসাইট ও অ্যাপের দৌরাত্মে ওয়েব ডেভেলপারদের চাহিদা অনেক বেশি। সব প্রতিষ্ঠানেরই এখন অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন প্রেজেন্স অপরিহার্য। আর তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিজস্ব ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কেননা ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারলে আপনি যে কোন ওয়েবসাইটের পুরোটা একাই ডেভেলপ করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। তাই ফুল স্ট্যাকে দক্ষ হতে পারবে চাকরির বাজারে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় আপনার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। কারণ, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরিদাতা স্বভাবতই একজন ব্যাকএন্ড বা শুধু ফ্রন্টএন্ড ডেভেলপারের থেকে ফুল স্ট্যাক ডেভেলপারকেই বেশি প্রাধান্য দেন।

চাহিদা অনুযায়ী পাইথন কিভাবে শিখবেন?

বেসিক লেভেল:

যেমনটা আগে বলছিলাম, পাইথনে যারা একেবারেই নতুন তাদের জন্য উপযুক্ত একটি কোর্স Python for Beginners। এই কোর্সটি মূলত পাইথনের বেসিক ধারণাগুলো নিয়ে সাজানো। কিন্তু বেসিক শেখার পাশাপাশি কিভাবে তা প্রয়োগ করা যায় তাও জানতে পারবেন এই কোর্সটি থেকে। কোর্সে রিকার্শন (Recursion) এবং অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (OOP) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত লেসনগুলো পরবর্তীতে পাইথনের সাহায্যে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব। এছাড়া সমগ্র কোর্সটি পাইথনের সাহায্যে অনেকগুলো প্র্যাক্টিস প্রবলেম ও সলিউশনের মাধ্যমে সাজানো। যা আপনার প্রবলেম সলভিংয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং পাইথনের বিভিন্ন ফিল্ড যেমন ডাটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সাহায্য করে।

এডভান্স লেভেল:

ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কেন এডভান্স পর্যায়ের দক্ষতা তা আগেই আলোচনা করা হয়েছে। যারা এই দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী তারা বহুব্রীহির ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্সটি করে নিতে পারেন। কেননা ৬ মাসের এই প্রোগ্রামে পাইথন ও জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখানোর পাশাপাশি মোট ২২ টি ছোট-বড় প্রজেক্ট, ৮ টি লাইভ সেশন ও এই ফিল্ডে চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি সহ সব বিষয়ে মেন্টর সাপোর্ট দেয়া হয়।

বেসিক থেকে এডভান্স লেভেল:

পাইথনের জনপ্রিয় ফ্রেমওয়ার্ক জ্যাংগো শিখতে চাইলে Django: Backend Web Development with Projects এবং Django Projects: Blog, eCommerce & Social Media Websites জনপ্রিয় এই ২টি কোর্সের সহায়তা নিতে পারেন। কোর্সটিগুলোতে  বিগিনার থেকে শুরু করে এডভান্সড লেভেলের টপিক পর্যন্ত কভার করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা জ্যাংগো নতুন শিখা শুরু করবেন বা শিখছেন তারা সবাই কোর্সগুলোতে এনরোল করতে পারেন।

কোর্স থেকে জ্যাংগো ইউজ করে একটা ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ ব্যাক এন্ড কিভাবে ডেভেলপ করা যায় তা জানতে পারবেন। অর্থাৎ ডাটাবেজ থেকে শুরু করে ইউজার অথেনটিকেশন পর্যন্ত সবকিছু।

পরিশেষে

পাইথনের চাহিদা এখন আর শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের কাছেই নয়, এর নানাবিধ সুবিধার কারণে ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট থেকে শুরু করে মার্কেটিং প্রফেশনাল, উদ্যোক্তা এমনকি সাধারণ চাকরিজীবিরাও তাদের কাজকে আরো সহজ করতে পাইথন ব্যবহার করছেন। তাই এই ল্যাংগুয়েজে দক্ষ হয়ে উঠতে পারলে আপনি যেই প্রোফেশনেই ক্যারিয়ার গড়ুন না কেন, তা আপনাকে সাহায্য করবে।

Nishat Anjum Lea
0 0 vote
Article Rating
Rate This Article
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
most voted
newest oldest
Inline Feedbacks
View all comments
Muhammad Emanur Rahaman
Muhammad Emanur Rahaman
March 22, 2021 2:24 pm

Thanks,Bohubrihi